ওয়েবডেস্ক। ১২ জুন
বর্ষা মরশুমকে সামনে রেখে সম্ভাব্য বন্যা, ঝড় ও ভূমিধস মোকাবিলায় ডিমা হাসাও জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (ডিডিএমএ) প্রস্তুতি পর্যালোচনা করলেন জেলার অভিভাবক মন্ত্রী তথা জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পাহাড়ি এলাকা ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। শুক্রবার এক ঝটিকা সফরে হাফলং আসেন মন্ত্রী। এদিনই বৈঠক শেষে ফের গুয়াহাটি ফিরে যান তিনি।
এদিন ডিমা হাসাও অটোনমাস কাউন্সিলের প্রধান কার্যনির্বাহী সদস্যের সম্মেলন কক্ষে তাঁর পৌরোহিত্যে বিভাগীয় পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে অভিভাবক মন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানো হয় এবং পরে কাউন্সিল প্রধান সচিব পার্থ জহরি স্বাগত ভাষণ দেন৷
মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে অনুষ্ঠিত এদিনের বৈঠকে বর্ষাকালীন দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। জেলার অতিরিক্ত কমিশনার শৌর্য শর্মা জেলার বিভিন্ন প্রশমনমূলক ব্যবস্থা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
বৈঠকে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল পাহাড়ি জেলার দ্রুত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, পর্যটন শিল্পকে রাজস্ব বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তাঁর নেতৃত্বে ডিমা হাসাও উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
জেলার বিভিন্ন উৎসভিত্তিক জল সংরক্ষণ এবং পানীয়জলের সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের মুখ্য বাস্তুকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ‘হর ঘর নল সে জল’ প্রকল্প বাস্তবায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন মন্ত্রী পাল। এদিকে, হাফলংয়ের বিধায়ক রূপালি লাংথাসা পাহাড়ি জেলাগুলির বিশেষ চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে জলজীবন মিশনের (জেজেএম) অধীনে যথাযথ সমীক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। অভিভাবক মন্ত্রী অচল হয়ে পড়া জেজেএম প্রকল্পগুলি পরিদর্শনের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
যুগ্ম-সচিব রেবেকা চাংসান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করে কার্যকর বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ট্রাইসাইকেলের পরিবর্তে মোটরচালিত যানবাহন ব্যবহারের সুপারিশ করেন। এছাড়া, পূর্ত বিভাগের টেন্ডার কাজে গাফিলতি করা ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন অভিভাবক মন্ত্রী। তিনি বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলের প্রধান কার্যনির্বাহী সদস্য দেবোলাল গলো৴সা, বিধায়ক রূপালি লাংথাসা, পরিষদের চেয়ারম্যান মোহেত হোজাই, নির্বাহী সদস্য ধৃতি থাওসেন, ডনপাইনন থাওসেন-সহ অন্যান্য ইএম এবং নির্বাহী সদস্যরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পাহাড়ি এলাকা উন্নয়ন বিভাগের সচিব টি টি দাওলাগুপু, প্রধান সচিব পার্থ জহরি প্রমুখ।

error: Content is protected !!