ওয়েবডেস্ক। ১০ জুন
ডিমা হাসাও স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের প্রধান কার্যনির্বাহী সদস্য (সিইএম) হিসেবে দেবোলাল গর্লোসার দশ বছরের কার্যকালের পূর্তি উপলক্ষে বুধবার হাফলঙের নবনির্মিত জেলা গ্রন্থাগার অডিটোরিয়াম হল-এ এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিইএম দেবোলাল গর্লোসা ডিমা হাসাওয়ের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জেলার প্রতিটি সম্প্রদায়ের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বিশেষভাবে দেহাঙ্গি সমষ্টির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
তিনি ডিমাসা সম্প্রদায়সহ জেলার ক্ষুদ্র-বৃহৎ সমস্ত জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জেলার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রয়াত কাউন্সিল সদস্য সুব্রত থাওসেন ও স্যামুয়েল চাংসানের মতো সহকর্মীদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
অতীতের কথা স্মরণ করে গর্লোসা বলেন, এক সময় ডিমা হাসাও বিভিন্ন নেতিবাচক ঘটনার জন্য সংবাদ শিরোনামে উঠে আসত। সেই পরিস্থিতি থেকে জেলাকে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াকে তিনি নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেছিলেন। আগামী দিনে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘতম সময় ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, নিজের দশ বছরের কর্মযাত্রার জন্য সম্মানিত হওয়া তাঁর কাছে আশীর্বাদ ও সৌভাগ্যের বিষয়। চাকরির ক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং যুব সমাজকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি জানান, জেলার জন্য বহু নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ইতিমধ্যেই পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহিত হোজাই বিগত সালের অস্থির পরিস্থিতির কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সেই সময় ডিমা হাসাও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইন-শৃঙ্খলা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। কিন্তু সিইএম দেবোলাল গর্লোসার নেতৃত্বে জেলায় অশান্তির পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়েছে। ভবিষ্যতেও তাঁর নেতৃত্বে আরও উজ্জ্বল দিন আসবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
হাফলঙের বিধায়ক রূপালি লাংথাসাও দেবোলাল গর্লোসাকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ সাফল্যময় জীবনের কামনা করেন। তিনি বলেন, জনসেবার ক্ষেত্রে সিইএম গর্লোসাই তাঁর প্রেরণা ও পথপ্রদর্শক।
শিক্ষাক্ষেত্রে ডিমা হাসাওয়ের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলার শিক্ষার মানোন্নয়নের নেপথ্যে সিইএম-এর দূরদর্শী উদ্যোগ তথা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও যুব সমাজের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, গাঁওবুড়াদের জন্য মাসিক পাঁচ হাজার টাকার ভাতা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সিইএম-এর সরেজমিনে পরিদর্শনের মতো উদ্যোগগুলিরও তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন। জেলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সিইএম-এর গভীর জ্ঞান এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
