ওয়েবডেস্ক। ৭ জুন
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে অসম সরকারের ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে হাফলঙে অনুষ্ঠিত হল রাজ্যব্যাপী রবীন্দ্রসঙ্গীত ও রবীন্দ্রনৃত্য প্রতিযোগিতা। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক আবহে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের সদস্য অজয় চক্রবর্তী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার রঘুরাজ বৈদ্য, প্রাক্তন এগজিকিউটিভ মেম্বার কুলেন্দ্র দাওলাগুপু এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শ্যামানন্দ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের সূচনায় জেলা কো-অর্ডিনেটর পঙ্কজকুমার দেব অতিথি, প্রতিযোগী ও দর্শকদের স্বাগত জানান। তিনি তাঁর বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য ও মানবতাবাদী দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের প্রায় শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত ও রবীন্দ্রনৃত্য—উভয় বিভাগেই প্রতিযোগীরা মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপস্থাপন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। দিনভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রচেতনার এক অনন্য আবহ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক শ্যামানন্দ চৌধুরী বলেন, রবীন্দ্রনাথকে প্রকৃত অর্থে জানতে হলে তাঁর দর্শন ও চিন্তার গভীরে প্রবেশ করতে হবে। তিনি শুধু একজন কবি নন, একজন মহান মানবতাবাদীও ছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও ডিমা হাসাও রাজ্যসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করবে।
প্রাক্তন এগজিকিউটিভ মেম্বার কুলেন্দ্র দাওলাগুপু তাঁর বক্তব্যে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। কবি, সাহিত্যিক, গল্পকার ও সুরকার হিসেবে তাঁর অবদান বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
প্রধান অতিথি অজয় চক্রবর্তী বলেন, বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক জেলা ডিমা হাসাওয়ে আজও রবীন্দ্রনাথ সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর মতে, এই ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে এবং রবীন্দ্রচেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজক সমিতির সভাপতি আশিস দত্ত ধন্যবাদ জানান। তিনি অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনে সহযোগিতা করা সকল অতিথি, বিচারক, প্রতিযোগী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আয়োজকদের মতে, রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিশীল চেতনা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

error: Content is protected !!