ওয়েবডেস্ক। ৯ জুন
দেখতে দেখতে কেটে গেল একটি দশক। ২০১৬ সালের এই দিনে ডিমা হাসাও স্বায়ত্ত্বশাসিত পরিষদের প্রধান কার্যনির্বাহী সদস্য (সিইএম) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন দেবোলাল গলো৴সা৷ পাহাড়ি জেলার উন্নয়নের এক সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন নিয়ে তিনি যখন এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন থেকেই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল জেলার অপার প্রাকৃতিক সৌন্দয্য৴ ও সম্পদকে কাজে লাগিয়ে ডিমা হাসাওকে একটি উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্ন বাস্তবের রূপ নিতে শুরু করে। দীর্ঘ দশ বছরে জেলার পর্যটন খাতে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তা আজ সকলের কাছেই দৃশ্যমান। একসময় অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত এই পাহাড়ি জেলা আজ উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্থল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
জেলার সদর শহর হাফলং, যা ‘অসমের একমাত্র পাহাড়ি স্টেশন’ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই পাহাড়ি জেলা।
একইভাবে উমরাংশুর প্রাকৃতিক সৌন্দয্য৴, পানিমুর জলপ্রপাতের মনোরম পরিবেশ, ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন মাইবাং, জাটিঙ্গার রহস্যময় পাখিদের আগমন, আই লাভ ডিমা হাসাও, জাটিঙ্গায় মিনি পেহেলগাঁও এবং আরও বহু পর্যটনস্থল প্রতিদিন অসংখ্য ভ্রমণপিপাসুকে আকর্ষণ করছে।
পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন, রাস্তা নির্মাণ, দর্শনীয় স্থানগুলির সৌন্দর্যায়ন এবং পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ফলে জেলার পর্যটনশিল্প নতুন গতি পেয়েছে। এর ফলে শুধু জেলার পরিচিতিই বৃদ্ধি পায়নি, বরং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দেবলাল গলো৴সার নেতৃত্বে ডিমা হাসাওয়ে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে।
বিশেষ করে পর্যটন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলেই আজ জেলার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দয্য৴, মনোরম আবহাওয়া এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে ভবিষ্যতে ডিমা হাসাও ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিল স্টেশন ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
দশ বছর পূর্তির এই মুহূর্তে অনেকেই মনে করছেন, দেবোলালের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং দূরদর্শী নেতৃত্বই ডিমা হাসাওকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আর সেই কারণেই পাহাড়ের এই অপরূপ জেলা ধীরে ধীরে পর্যটনের মানচিত্রে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
তবে জেলার এই সৌন্দয্য৴ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশকে অটুট রাখতে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি আগত পর্যটকদেরও সচেতন ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। কারণ, প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ সংরক্ষণ করেই আগামী দিনে ডিমা হাসাওকে দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে।

error: Content is protected !!