ওয়েবডেস্ক। ২৬ অক্টোবর
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রয়াত বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাতীয় রাজনীতি। সোমবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ দেখিয়ে খাড়গের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। একই সঙ্গে তাঁর পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, বিজেপির এই প্রতিবাদের পাল্টা জবাব দিয়েছে কংগ্রেস ও বিরোধী শিবির। দুই পক্ষের চাপানউতোরে নতুন করে সরগরম রাজনৈতিক মহল।
বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার বিহারের রাজধানী পাটনায় একটি জনসভায়। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে মন্তব্য করেন, তিনি কোথাও যাবেন না। তার জবাবে খাড়গে বলেন, ‘উনি যাবেন না, ওঁর বাবা যাবে!’ এই মন্তব্যের পরেই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে সরব হয় বিজেপি। কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক।
সোমবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভে শামিল হন। পাটনা, দিল্লি, মুম্বই, রাঁচি, কলকাতা, জম্মু এবং বেঙ্গালুরুতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। পাটনায় বিপুল সংখ্যক বিজেপি কর্মী রাস্তায় নেমে খাড়গের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। কয়েকটি জায়গায় তাঁর কুশপুতুলও পোড়ানো হয়। বিজেপির দাবি, দেশের প্রধান বিরোধী দলের সভাপতির কাছ থেকে এই ধরনের মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে তাঁকে।
খাড়গের মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার নয়াদিল্লিতে তাঁর বাসভবনের কাছাকাছি বিক্ষোভ দেখান বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। রাজাজি মার্গে অবস্থিত খাড়গের বাসভবনের উদ্দেশে সেনা ভবন সার্কেল থেকে মিছিল শুরু করেন তাঁরা। মাঝপথে পুলিশ মিছিল আটকে দিলে সেখানেই বিক্ষোভ দেখিয়ে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন বিজেপি কর্মীরা।
কংগ্রেস সভাপতির মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও। তাঁর বক্তব্য, এই মন্তব্য কোনও সাধারণ দলীয় কর্মী করেননি, করেছেন দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দলের সর্বভারতীয় সভাপতি। তাঁর মতে, বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করার পরিবর্তে কংগ্রেস নেতৃত্ব যদি তার সাফাই দেয়, তা হলে সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে। খাড়গে এমন মন্তব্য করে দেশের অপমান করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশিও কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে তাঁর অভিযোগ, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং প্রয়াত বাবা-মাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার প্রবণতা কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। খাড়গের বক্তব্যের জন্য কংগ্রেস নেতৃত্বকে জবাবদিহি করতে হবে বলেও দাবি করেছে বিজেপি।
তবে বিজেপির অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে কংগ্রেস। কর্ণাটকের মন্ত্রী তথা খাড়গের পুত্র প্রিয়ঙ্ক খাড়গে বলেন, বিজেপি তুচ্ছ বিষয়কে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করতে অভ্যস্ত। তাঁর অভিযোগ, অতীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সব ঘটনা ভুলে গিয়ে বিজেপি এখন কংগ্রেসকে রাজনৈতিক নীতিশিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
বিতর্কে মুখ খুলেছেন কংগ্রেসের জোটসঙ্গী রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সাংসদ মনোজ ঝা। খাড়গের ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে আপত্তি থাকতে পারে বলে স্বীকার করেও বিজেপির প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অতীতে সোনিয়া গান্ধী কিংবা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে নিয়ে বিজেপি নেতাদের মন্তব্যের ক্ষেত্রেও একই রকম প্রতিবাদ দেখা যায়নি। রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের বিরোধিতা হলে তা সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে হওয়া উচিত বলে মত তাঁর।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন এক বিজেপি নেতা। বিহারের রাজধানী পাটনায় এই অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপির রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কৃষ্ণকুমার সিং। খাড়গের মন্তব্যের ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে তাঁর বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট যাচাই করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছেন ওই বিজেপি নেতা।
