ওয়েবডেস্ক। ২৩ অক্টোবর
শুধু বিয়ে করার উদ্দেশ্যে ধর্ম পরিবর্তনকে সমর্থন করা যায় না। ধর্মীয় স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে, বিয়ের জন্য কাউকে ধর্মান্তরিত হতে হবে। মহারাষ্ট্রের নতুন ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি মামলায় এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল বম্বে হাইকোর্ট। থানের এক ৭০ বছর বয়সি মৌলবির দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
মহারাষ্ট্রের সদ্য প্রণীত ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই মৌলবি। তাঁর দাবি ছিল, এই আইন সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ধর্মাচরণ ও ধর্মপ্রচারের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে। কিন্তু বিচারপতি মহেশ ত্রিপাঠী ও বিচারপতি সেথনার ডিভিশন বেঞ্চ সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রত্যেক নাগরিকের নিজের ধর্ম পালন, ধর্মপ্রচার এবং স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তনের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে সেই স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে, বিয়ের মতো ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধর্মান্তরকে বাধ্যতামূলক বা চাপের মাধ্যমে কার্যকর করা যাবে। বিশেষ করে বিয়ের ঠিক আগের দিন ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি সমর্থনযোগ্য নয় বলেই জানিয়েছে আদালত।
মহারাষ্ট্র সরকার সম্প্রতি ধর্মান্তর নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন এনেছে। ওই আইনে বলপূর্বক, প্রতারণার মাধ্যমে, ভয় দেখিয়ে, প্রলোভন দিয়ে বা বিয়ের প্রতিশ্রুতিকে ব্যবহার করে ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে। স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে প্রস্তাবিত ধর্মান্তরের অন্তত ৬০ দিন আগে কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়ার বিধান।
আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবেদনকারী দাবি করেছিলেন, এর ফলে ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাস ও জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। কিন্তু আদালত জানিয়েছে, জোর করে বা চাপ সৃষ্টি করে ধর্মান্তরের আশঙ্কা রুখতে রাজ্য সরকারের আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যকে বিবেচনায় নিতে হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং জবরদস্তি করে ধর্মান্তর রোধ করা, দুটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তনের অধিকার থাকলেও কেবল বিয়ের উদ্দেশ্যে ধর্মান্তরকে সমর্থন করা যায় না। আবেদনকারীর বক্তব্যে যথেষ্ট বাস্তব ভিত্তি রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। শেষ পর্যন্ত আবেদনটি খারিজ করে দেয় বম্বে হাইকোর্ট। ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বিয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

error: Content is protected !!