ওয়েবডেস্ক। ২ জুন
যেজনা গৌরাঙ্গ ভঝে সে হয় আমার প্রাণ রে। সনাতনী নিয়মে যে গৌরাঙ্গ বুঝবে আমি তাঁর কাজ করব। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেখানেই সরকারি জমি দখল করে কেউ বসবাস করছেন বা জমি দখল করে রেখেছেন তাদের উচ্ছেদ করা হবে। উচ্ছেদ অভিযান চলবেই। মঙ্গলবার বেলা একটায় বদরপুর পুরসভায় এক্স অফিসিও মেম্বার হিসাবে শপথ নিয়ে উপরোক্ত মন্তব্য করেন কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ।
বিধায়ক বলেন, ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে উন্নয়নের সম্পর্ক রয়েছে। তাই কোনও এক বিধায়ক বদরপুর পুরসভার নাম বদল করে সিদ্ধেশ্বর ধাম পুরসভার করার বিপক্ষে তাঁর মতামত তুলে ধরেছেন। এটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। বদরপুরকে সিদ্ধেশ্বর ধাম পুরসভা করা হবেই। শহরের আশপাশ এলাকা সহ কাটিগড়ার কিছু অংশ নিয়ে নতুন পুরসভার গঠন হবে। এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীও সবুজ সংকেত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ৭৪ এবর্টমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী পুরসভা টাউন কমিটি নিগম মানে একটা সরকার গঠন করা। এই অনুযায়ী ক্ষমতা বলে আজ তিনি বদরপুর পুরসভায় এক্স অফিসিও মেম্বার হিসেবে শপথ নিতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছেন।
বিধায়ক বলেন, তাঁর ক্ষমতা অনুযায়ী বদরপুর শহরকে আধুনিকীকরণ সহ সাজিয়ে তুলতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখবেন না। সব কমিশনারদের সঙ্গে নিয়েই শহরের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্যও সহযোগিতা করে যাবেন বলেও মন্তব্য করেন। বলেন, আগে যাঁরা এক্স অফিসিও মেম্বার ছিলেন তাঁরা শুধু কমিশন নিয়েছেন। এবার কমিশন ছাড়াই কাজ হবে। আগেকার এক্স অফিসিও মেম্বাররা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেননি। এবার তিনি গুরুত্ব সহকারে নিজের দায়িত্ব পালন করবেন বলেও মন্তব্য করেন বিধায়ক। তিনি বলেন, শহরের জল নিষ্কাশন, বিশুদ্ধ পানীয়জলের ব্যবস্থা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, অডিটোরিয়াম হল, খেলার মাঠ সবকিছুই তিনি এই পাঁচ বছরে করে দেখাবেন। শহরের পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নের জন্য ডিপিআর তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এটা হয়ে গেলে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। তিনি বদরপুরবাসীকে সামান্য ধৈর্য ধরে উন্নয়নের নমুনা দেখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের মুখ্য অতিথি সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, আজকের অনুষ্ঠান অনেক আনন্দের। বিধায়ক কমলাক্ষ যখন বিরোধীদের দলে ছিলেন তাঁকে আমরা ওয়ান জিরো এইট বলতাম। এখন তিনি বিজেপি দলের বিধায়ক। তিনি সব কর্মকর্তা, জেলা সভাপতি, চার মণ্ডল সভাপতি সবাইকে এই জয়ের কৃতিত্ব দেন। কাছাড় জেলা বিজেপি সভাপতি রূপম শর্মা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বদরপুর পুরসভার উন্নয়ন নিয়ে ভাবতে হবে না। তীব্রগতিতে শহরের উন্নয়ন হবে। তবে পুরসভার কার্যালয়কে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। সেইসঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত পুরবোর্ড গড়ার পরামর্শ দেন।
এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরসভার চেয়ারপারসন রুবি নাগ, ভাইস চেয়ারম্যান সিতাংশু রায়, কাটিগড়ার চার মণ্ডল সভাপতি মিঠুন শুক্লবৈদ্য, বিশালাক্ষ দে, নিরাপদ দাস, নৃত্য গোপাল দে, দীপক দেব, তপন মুহুরী, রঘুনাথ ভূঁইয়া দীপঙ্কর রায় কর্মকার মাধব রায় কর্মকার অনিতা বরুয়া সান্ত নাগ সহ আরও অনেক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পার্থপ্রতিম চক্রবর্তী।
শুরুতে বিধায়ক কমলাক্ষকে এক্স অফিসিও মেম্বার হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার সিদ্ধার্থ দেব শর্মা। শপথ গ্রহণের পর উল্লেখিত অতিথিরা বক্তব্য রাখেন। শেষ বিধায়ক কমলাক্ষ সাংবাদিকদের জানান, শহরের উন্নয়নে কোনও খামতি থাকবে না। নতুন করে পুরো বোর্ড সাজানোর প্রয়াস তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি জায়গায় বসবাসকারীদের প্রয়োজনে উচ্ছেদ অভিযান চলবে। যারা সনাতনী নিয়মে এবং রাষ্ট্রবাদী হিসেবে চলবে তাদের কাজ হবে। যারা বিজেপিকে চায়নি তাদের এলাকায় কোনও কাজ হবে না।

error: Content is protected !!