ওয়েবডেস্ক। ১৭ জুন
লক্ষীপুরে বুধবার আয়োজিত হল প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১২ বছর কার্যকাল পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এই নাগরিক সম্মেলন।
এদিন সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ ফুলেরতলস্থিত লক্ষীপুর উন্নয়ন খণ্ডের এপি হল-এ এক বিশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধলাই বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক অমিয়কান্তি দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লক্ষীপুর পুরসভার পুরপতি মৃণালকান্তি দাস, মণিপুরি উন্নয়ন পরিষদের সভানেত্রী রিনা সিংহ, কাছাড় জেলা বিজেপির দুই সহ-সভাপতি সঞ্জয় ঠাকুর ও প্রসেনজিত ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ রাই এবং লক্ষীপুর মণ্ডল বিজেপি সভাপতি গুঞ্জন কর প্রমুখ। সম্মেলনের শুরুতে অতিথি অমিয়কান্তি দাস ও অন্যান্যদের গামছা দিয়ে প্রথাগত সম্মান জানানো হয়। স্বাগত ভাষণ দেন মৃণালকান্তি দাস এবং সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গুঞ্জন কর।
প্রধান অতিথির ভাষণে বিধায়ক অমিয়কান্তি দাস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্যকালের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খতিয়ান বিশদে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাধারণ ঘরের সন্তান হয়েও নরেন্দ্র মোদি গত ১০ জুন বিগত বারো বছরের কার্যকাল পূর্তি করে এক নতুন ইতিহাস গড়েছেন। দেশবাসীর সহযোগিতাতেই এটি সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৪ সালে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি মোদি সরকার একে একে পূরণ করে চলেছে, যার ফলে দেশের দরিদ্র শ্রেণির মানুষেরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন।
কংগ্রেসকে হালকাভাবে কটাক্ষ করে বিধায়ক বলেন, মোদিজি কোনও পরিবারতন্ত্র থেকে উঠে আসেননি। বাবার সঙ্গে চা বিক্রি করা থেকে শুরু করে সাধারণ কাজের মাধ্যমে আজ তিনি এই জায়গায় পৌঁছেছেন, তাই দারিদ্রতা দূরীকরণই তাঁর সরকারের মূল অগ্রাধিকার। দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ‘দালাল রাজ’ প্রায় নির্মূলের পথে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শৌচালয় নির্মাণ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর, বিদ্যুৎ সংযোগ, রান্নার গ্যাস, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, কিষান নীতি ইত্যাদি এবং দূরদর্শী বিদেশ নীতির কারণে ভারত আজ বিশ্বমঞ্চে এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছে।
ঐতিহাসিক রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের সংস্কারের কথাও তিনি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নের ভারতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী গ্রামীণ সড়ক যোজনার মাধ্যমে শহর ও গ্রামের যে সংযোগ ঘটিয়েছিলেন, সেই পথ ধরেই আজ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। ভাষণের শেষাংশে তিনি রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।
অন্যান্যদের মধ্যে এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন মণিপুরি উন্নয়ন পরিষদের সভানেত্রী রিনা সিংহ। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ধলাইর বিধায়ক অমিয়কান্তি দাস লক্ষীপুরের আমূল পরিবর্তনের জন্য স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৌশিক রায়ের উন্নয়নমূলক কাজেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।
