ওয়েবডেস্ক। ১২ জুন
রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা। দলীয় নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল শীর্ষ আদালত। ফলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত আপাতত বহালই থাকছে।
মধ্যপ্রদেশ থেকে মীনাক্ষী নটরাজনকে রাজ্যসভায় পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু মনোনয়নপত্রে একটি বিচারাধীন মামলার তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাঁর প্রার্থীপদ বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে বিজেপি প্রার্থী ইতিমধ্যেই জয়ী হয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কংগ্রেস।
শুক্রবার শুনানিতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মীনাক্ষী নটরাজনের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে রুজু হয়নি। কেবল আদালতের পক্ষ থেকে নোটিশ জারি করা হয়েছিল। তাই মনোনয়নপত্রে ওই তথ্য উল্লেখ না করাকে গোপনীয়তা বা তথ্য লুকোনোর ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
তবে শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন এই পর্যায়ে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনও সিদ্ধান্ত ভুল হলেও মনোনয়ন বাতিল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। তাই এই মামলায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন দেখছে না আদালত।
মীনাক্ষীর হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি যুক্তি দেন, শুধুমাত্র সেই সব ফৌজদারি মামলার তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক, যেখানে ন্যূনতম দু’বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তাঁর দাবি, মীনাক্ষীর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং তাই মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত যথাযথ নয়।
প্রসঙ্গত, বিতর্কের সূত্রপাত একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারী এক মহিলা হায়দরাবাদের একটি আদালতে মীনাক্ষী নটরাজন-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে আদালতের পক্ষ থেকে নোটিশ জারি করা হয়। যদিও মীনাক্ষী ও তাঁর আইনজীবীরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। পাশাপাশি মামলাটি খারিজের আবেদনও করা হয়েছে, যা এখনও বিচারাধীন।
শীর্ষ আদালতের অবস্থানের ফলে আপাতত মীনাক্ষী নটরাজনের রাজ্যসভা প্রার্থী হওয়ার পথ বন্ধই রইল। তবে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

error: Content is protected !!