ওয়েবডেস্ক। ১২ জুন
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে পশ্চিমি দেশগুলির সমালোচনার মুখে ভারতের অবস্থান ফের স্পষ্ট করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর বক্তব্য, ভারত নিজের জাতীয় স্বার্থ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেয়। একইসঙ্গে ইউরোপের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বহু বছর ধরে ইউরোপে তৈরি অস্ত্র ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে, অথচ ভারত কখনও ইউরোপের নিরাপত্তার ক্ষতি করে এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
ফিনল্যান্ডে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক আলোচনায় বিদেশমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর কেন ভারত রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য আরও বাড়িয়েছে। জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের তেল আমদানির সিদ্ধান্ত কোনও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং জ্বালানির সহজলভ্যতার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভারত পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির ওপর তেল আমদানির জন্য নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলিও যখন একই উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ তেল সংগ্রহ শুরু করে, তখন ভারতের সামনে বিকল্প উৎস খুঁজে নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতেই রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে উঠে আসে।
পশ্চিমি সমালোচনার জবাবে বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতীয় অস্ত্র কখনও ইউরোপের কোনও দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়নি। কিন্তু ইউরোপে তৈরি অস্ত্র ভারতের প্রতিবেশী অঞ্চলে পৌঁছে ভারতের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছে। এই বাস্তবতাও আন্তর্জাতিক মহলের বিবেচনায় রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জয়শঙ্কর দাবি করেন, একসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে ভারতকে নিরুৎসাহিত করেনি। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, নয়াদিল্লি কোনও দেশের পরামর্শে নয়, বরং নিজের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং জ্বালানি নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তেল বাণিজ্যের মতো অর্থনৈতিক বিষয়ে নৈতিকতার মোড়ক চাপিয়ে অন্য দেশকে নির্দেশ দেওয়ার অধিকার কারও নেই। তাঁর ইঙ্গিত ছিল সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির দিকেই। সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর বলেন, আমেরিকার অবস্থান বারবার বদলেছে। কখনও রুশ তেল কেনার জন্য শুল্ক চাপানো হয়েছে, আবার পরিস্থিতি বদলালে সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিলও করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘একই কাজ কখনও অপরাধ, আবার কখনও গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, এখানে নৈতিকতার চেয়ে বড় বিষয় হল জাতীয় স্বার্থ ও রাজনৈতিক সুবিধা।’ তিনি আরও বলেন, কোনও দেশকে মানবাধিকার বা নৈতিকতার পাঠ পড়ানোর আগে নিজেদের নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত।

error: Content is protected !!