ওয়েবডেস্ক। ৯ জুন
সড়ক না পুকুর, বোঝাই দায়! শুকনো মরশুমে ধুলোঝড় আর বর্ষা আসতেই জলমগ্ন বড় বড় গর্ত। বছরের পর বছর ধরে এই যন্ত্রণাই এখন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে লক্ষীপুরের জয়পুর-হরিনগর সংযোগকারী সড়কের একটি বিশেষ অংশের বাসিন্দাদের। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগেও প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বছর বছর ধরে জয়পুর-হরিনগর সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ সম্পূর্ণ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য বারবার প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানানো সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে আবহাওয়া যাই হোক, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কাটে না। শুকনোর সময়ে চড়া রোদে ধুলোবালির ঝড়ে ঘর থেকে বের হওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে, আর সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জমে থাকা জলে হাবুডাবু খেতে হয়।
এই বেহাল রাস্তার কারণে ইতিমধ্যে বহু মানুষ শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ভাঙাচোরা খানাখন্দে ভরা এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই বিকল হয়ে পড়ছে ছোট-বড় যানবাহন। মাঝেমধ্যে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। নোংরা জল-কাদা পেরিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ায় বিঘ্নিত হচ্ছে তাদের পড়াশোনা।
এলাকাবাসীর আক্ষেপ, বর্ষার শুরুতেই তারা সড়কটি সংস্কারের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতায় সড়কের অন্যান্য অংশের ছোটখাটো গর্ত জোড়াতালি দিয়ে ভরাট করা হলেও, এই তিন কিলোমিটার দীর্ঘ মরণফাঁদকে সম্পূর্ণ অবহেলা করে ফেলে রাখা হয়েছে।
চারদিকে যখন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরা হচ্ছে, তখন এই তিন কিলোমিটারের বাসিন্দাদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— উন্নয়নের রাজ্যে তারা আদৌ কি এই যন্ত্রণা থেকে কোনওদিন মুক্তি পাবেন, নাকি এভাবেই চলতে থাকবে প্রশাসনের উদাসীনতা? দ্রুত এই সড়ক সংস্কার করা না হলে আগামীদিনে আরও জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

error: Content is protected !!