ওয়েবডেস্ক। ২৯ মে
যৌথ গবেষণা, শিক্ষক ও ছাত্র বিনিময়, শিক্ষা বিষয়ক সহযোগিতার লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের সুরীন্দ্র রাজভাট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করল আসাম বিশ্ববিদ্যালয়৷ এই সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে শিক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতা ছাড়াও আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক অ্যাকাডেমিক কম৴সূচি পরিচালনার পথ আরও প্রসারিত হবে বলে আশাপ্রকাশ করা হয়েছে৷
সম্প্রতি থাইল্যান্ডের সুরীন্দ্র রাজভাট বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি : সংকট মোকাবিলা এবং সীমান্তবতী৴ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা উন্নয়ন’ শীষ৴ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়৷ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন৷ আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই সম্মেলনে যোগ দেন উপাচায৴ অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ ও বাণিজ্য প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দীপজ্যোতি চৌধুরী৷
মূল অধিবেশনে উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি : সংকট মোকাবিলা এবং সীমান্তবতী৴ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা উন্নয়ন’ শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, সীমান্ত অতিক্রমকারী অপরাধ, অভিবাসনজনিত ঝুঁকি, বহুমাত্রিক প্রশাসনিক জটিলতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাগুলি নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেন৷ পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, থাইল্যান্ড-মায়ানমার সীমান্ত এবং ইউরোপের সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি ব্যাখ্যা করেন কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পূর্বাভাসভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং আধুনিক ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা বত৴মানে সংকট মোকাবিলা ও সীমান্ত সুরক্ষায় গুরুত্বপূণ৴ ভূমিকা পালন করছে৷
অন্য এক কারিগরি অধিবেশনে ড. দীপজ্যোতি চৌধুরী ডিজিটাল যুগে যুদ্ধ ও সংকট মোকাবিলা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন৷ তিনি বত৴মান সময়ে সাইবার অপরাধ, তথ্য চুরি, ভুয়ো তথ্য প্রচার, কৃত্রিমভাবে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি ও ভিডিও এবং প্রযুক্তিনিভ৴র বৈশ্বিক সংঘাতের ক্রমবধ৴মান ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন৷ একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা সম্পকে৴ সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ব্যবহারে নৈতিক নীতিমালা এবং আন্তজা৴তিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন৷
উল্লেখ্য, আসাম বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক গবেষণা, শিক্ষক বিনিময় এবং বৈশ্বিক শিক্ষাগত সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের কায৴ক্রম সম্প্রসারিত করে চলেছে৷ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ই আশা প্রকাশ করেছে, এই সহযোগিতা ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক সম্পক৴কে আরও সুদৃঢ় করবে৷ পাশাপাশি ছাত্র-শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অজ৴ন, যৌথ গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও এই চুক্তি গুরুত্বপূণ৴ ভূমিকা পালন করবে বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে৷
