ওয়েবডেস্ক। ২৯ এপ্রিল
বিশ্ব জ্বালানি রাজনীতিতে বড় ধাক্কা। প্রায় ছয় দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করে আগামী ১ মে থেকে তেল রফতানিকারী দেশগুলির সংগঠন ওপেক এবং বৃহত্তর ওপেক প্লাস জোট ছাড়ার ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের একাংশ একে ওপেকের ভবিষ্যতের জন্য বড় সংকেত বলেই মনে করছেন।
এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত এল, যখন ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ চাপে। গত কয়েক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ওপেকের অন্যতম বড় উৎপাদক দেশের সরে দাঁড়ানো বাজারের ভারসাম্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলেই আশঙ্কা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট মার্কিন ট্রাম্পের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বহুদিন ধরেই তিনি অভিযোগ করে আসছেন, ওপেক ইচ্ছাকৃতভাবে উৎপাদন কমিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে রাখে। তাঁর দাবি, এর ফলে ভোক্তা দেশগুলিকে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ বহন করতে হয়।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অভ্যন্তরীণ সমীকরণও এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের হামলার সময় পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়া নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল আমিরশাহির মধ্যে। বিশেষ করে সৌদি আরবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমিরশাহির কূটনৈতিক মহল থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, আঞ্চলিক মঞ্চগুলিও প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এর পাশাপাশি সৌদি যুবরাজের নীতির সঙ্গেও মতপার্থক্য বাড়ছিল বলে দাবি বিশ্লেষকদের। বিদেশি বিনিয়োগ টানার প্রতিযোগিতা এবং ইয়েমেন সংঘর্ষে অবস্থান, এই দুই ক্ষেত্রেই সৌদি-আমিরশাহি সম্পর্কে ফাটল স্পষ্ট হচ্ছিল। তবে আবুধাবি স্পষ্ট করেছে, ওপেক ছাড়লেও তারা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে দায়িত্বশীল ভূমিকা বজায় রাখবে। তেলের উৎপাদন ও রফতানিতে বড় কোনও ধাক্কা না দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হতে পারে ভারত। বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাতে দেশের আমদানি খরচ কমবে এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সমীকরণে এখন আশার আলো দেখছে নয়াদিল্লি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই এখনও ওপেক দেশগুলির উপর নির্ভরশীল। তবে আমিরশাহি যদি গোষ্ঠীর বাইরে থেকে তুলনামূলক সস্তায় তেল সরবরাহ করে, তা হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
