ওয়েবডেস্ক। ১২ মে
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।
ট্রাম্পের চিন সফর শুরু হচ্ছে ১৩ মে। তিন দিনের এই সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে চারবার বৈঠক করার কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে আলোচনার অন্যতম বিষয় হবে ইরান। ট্রাম্প চান, বেজিং যেন ইরানকে সামরিক ও কৌশলগত সুবিধা দেওয়া বন্ধ করে এবং যুদ্ধবিরতিতে রাজি করায়।
তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো সেই প্রস্তাবে ইরান দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে আমেরিকাকে। পাশাপাশি ইসলামিক রিপাবলিক হিসেবে স্বীকৃতি, হরমুজ প্রণালী-সহ গোটা ইরানের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা মানতে হবে। তবে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনও উল্লেখ নেই। ট্রাম্প মনে করছেন, এই প্রস্তাব আসলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি।
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনও সমাধান সূত্র না বেরোনোয় ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রিপোর্টে দাবি, এই অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরে ফের নতুন করে যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার ইরানের বিরুদ্ধে আগের থেকেও কড়া সামরিক পদক্ষেপ হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় বারবার নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছে ইরান। এতে অধৈর্য হয়ে পড়ছেন ট্রাম্প। প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, তেহরানকে দুর্বল করতে নির্দিষ্ট সামরিক হামলা প্রয়োজন। অন্যদিকে, অন্য পক্ষ এখনও কূটনৈতিক আলোচনার পক্ষে। ফলে প্রশাসনের ভিতরেই মতভেদ তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির তুলনা করেছেন ‘মৃত্যু পথযাত্রী রোগী’র সঙ্গে। তাঁর বক্তব্য, ‘এর টিকে থাকার সম্ভাবনা এখন মাত্র এক শতাংশ।’ ইরানের পাঠানো জবাবকে তিনি ‘আবর্জনা’ বলে কটাক্ষ করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরান যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালীতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে হামলা না চালানোর গ্যারান্টি চাইছে। তবে তেহরানের প্রস্তাবিত শর্তকে তিনি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলেছেন।
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। তাঁর কথায়, ‘আমেরিকা জয়ের দিকে এগোচ্ছে। তাত্ত্বিকভাবে বললে, আমরা ইতিমধ্যেই জিতে গিয়েছি। তাঁরা ভাবছে আমি ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দেব, কিন্তু আমার ওপর কোনও চাপ নেই।’
