ওয়েবডেস্ক। ৩১ ডিসেম্বর
বদরপুর বাজারের ফ্যান্সি স্টোরের সামনে থাকা ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মূর্তির বাউন্ডারি সংস্কার কাজকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, গত কয়েক মাস আগে ওই মূর্তির কিছু সংস্কারমূলক কাজ সম্পূর্ণভাবে এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতা ও চাঁদা সংগ্রহের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই কাজে কোনও সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়নি। অথচ সম্প্রতি সেখানে ১৫তম অর্থ কমিশনের অনুদানের আওতায় সরকারি প্রকল্প হিসেবে একটি ফলক বসানো হয়েছে। ফলকে উল্লেখ রয়েছে—২০২২–২৩ অর্থবর্ষের অনুমোদনে ২০২৩–২৪ সালে কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—যে কাজ সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত অর্থে হয়েছে, সেখানে কীভাবে সরকারি প্রকল্পের ফলক বসানো হল?
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি বিজেপি পরিচালিত বদরপুর পুরসভার দুর্নীতির একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। উমরপুর রাজারটিলা জেলা পরিষদ সদস্য জিল্লুর নুর চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের টাকায় করা কাজকে সরকারি প্রকল্প বলে দেখানো চরম দুর্নীতি জ্বলন্ত প্রমাণ। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। প্রকৃত সত্য সামনে না এলে সাধারণ মানুষের আস্থা প্রশাসনের উপর থেকে উঠে যাবে। তিনি আরও বলেন, যাঁরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন, তাঁদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও অত্যন্ত গুরুতর। গণতন্ত্রে ভয় দেখিয়ে চুপ করানো যায় না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, এই বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার ভয় দেখানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান ক্ষমতায় এলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন নেই। তাঁরা জানান, সময় আসছে যখন সাধারণ জনগণ সব কিছুর হিসাব সুদে-আসলে নেবে।
