ওয়েবডেস্ক। ১২ জুন
২০২৭ সালের শুরুতেই কাটিগড়ার ৪-৫ হাজার পরিবারকে ভূমির পাট্টা প্রদান করা হবে। শুক্রবার ২০০ জন ব্যক্তির হাতে ভূমির আবণ্টনপত্র তুলে দিয়ে এমনটাই ঘোষণা করলেন বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। মুখ্যমন্ত্রীর সদর্থক ভূমিকায় এখানকার বিভিন্ন গ্রামে বসবাস করা পূর্ববঙ্গীয় মূলের সবাইকে ভূমির পাট্টা দেওয়ার জন্য ডিজিটাল জরিপের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কাটিগড়ার বিভিন্ন গ্রামে বসবাস করা ১৬৮টি ভূমিহীন পরিবারকে ভূমি আবণ্টনপত্র প্রদান করা হয়। সিদ্ধেশ্বর প্রগতি সংঘের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। সার্কল অফিসার যাত্রাকান্ত কর্মকারের উপস্থিতিতে বিভিন্ন হিতাধিকারীর হাতে ভূমি আবণ্টনপত্র তুলে দেন তিনি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক বলেন, দেশভাগের বলি হয়ে এখানকার বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলেন বহু লোক। রিফিউজি রিহ্যাবিলিটেশন খাস (আরআর খাস) ভূমিতে তাঁদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু তারপর দীর্ঘ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও ওইসব লোকের ভাগ্যে ভূমির পাট্টা জুটেনি। এ ব্যাপারে কেউ কোনও তদ্বিরও করেনি। পূর্ববঙ্গ থেকে আসা ওই সব লোকের কাছে সবকিছু থাকলেও নেই ভূমির পাট্টা। ফলে এত বছরেও মুছে যায়নি রিফিউজি তকমা। এই অসম্পন্ন কাজটাই এখন সম্পন্ন করতে চলেছে বর্তমান সরকার। ইতিমধ্যে রিফিউজি তকমাটা মুছে দেওয়া হয়েছে। রিফিউজি রিহ্যাবিলিটেশন খাসকে (আরআর খাস) সাধারণ খাসভূমির অন্তভু৴ক্ত করা হয়েছে। এবার সরকারি নিয়ম মতে দেওয়া হবে ভূমির পাট্টা।
২০২৭ সালের শুরুর দিকে ৪ থেকে ৫ হাজার ভূমিহীন পরিবার পাবে ভূমির পাট্টা। এই লক্ষ্যে চলছে ডিজিটাল জরিপের কাজ। যে যেভাবে আছেন, সেই অবস্থানে মিলবে পাট্টা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মতেই মিলবে ভূমি। কারও দখলে ১০ বিঘা জমি থাকলে তা তো আর মিলবে না। সরকারি নিয়মে যতটা পাওয়ার তা মিলবে বলে সাফ জানান বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সদর্থক ভূমিকার জন্যই এমনটা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সার্কল অফিসার যাত্রাকান্ত কর্মকার। উপস্থিত ছিলেন কাটিগড়ার চার মণ্ডল বিজেপির সভাপতি ক্রমে নিত্যগোপাল দাস, বিশালাক্ষ দেব, নিরাপদ দেব, মিঠুন শুক্লবৈদ্য। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী ভূ-বাসন আধিকারিক কার্যালয়ের জৈষ্ঠ করণিক বিমল ধর।
