যুগশঙ্খ ওয়েবডেস্ক
গোয়ালপাড়া। ১১ আগস্ট

শুধুমাত্র গুয়াহাটির শ্রীসূর্য পাহাড় নয়, দখলদারদের থাবা গোয়ালপাড়ার ঐতিহাসিক শ্রীসূর্য পাহাড়েও পড়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইলোরা তথা দ্বিতীয় কাশীধাম খ্যাত শ্রীশ্রী সূর্য পাহাড়ের জমি গত ২০/২৫ বছর ধরে দখল হয়ে আসছে বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, শ্রীশ্রী সূর্য পাহাড়ের নামে ২ হাজার ৫৫২ বিঘা জমি রয়েছে। এক সময় বিজনির রাজার দান করা এই জমি দখলদারদের কবলে পড়ে ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী সূর্য পাহাড়ের ৮৮১ বিঘা জমিতে দখলদাররা ঘরবাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি চাষাবাদ করছে, এমনকি সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। বর্তমানে শ্রীসূর্য পাহাড়ের ১৩৩ নম্বর দাগের ২৭১ বিঘা এবং ১৪০ নম্বর দাগের ৬১০ বিঘা জমি দখল হয়ে আছে।
উল্লেখ্য, শ্রীশ্রী সূর্য পাহাড় পরিচালনা কমিটি দু’বছর আগেই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে অবগত করেছিল। এই ঐতিহাসিক তীর্থস্থানের জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে শ্রীশ্রী সূর্য পাহাড় পরিচালনা কমিটির সম্পাদক হরমোহন কলিতা বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের মিলনভূমি শ্রীসূর্য পাহাড় মহাপীঠস্থান সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ বহন করে আসছে। যুগ যুগ ধরে অঞ্চলটির স্থানীয় হিন্দু-মুসলমানরা সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসলেও ইতিমধ্যে বাইরে থেকে দখলদাররা এসে শ্রীসূর্য পাহাড়ের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। তাই শ্রীসূর্য পাহাড়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে স্থানীয় হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি অটুট রাখার জন্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে অনুরোধ জানিয়েছে শ্রীশ্রী সূর্য পাহাড় পরিচালনা কমিটি।
উল্লেখ্য, নিম্ন অসমের ঐতিহ্যবাহী তীর্থক্ষেত্রগুলোর মধ্যে গোয়ালপাড়া জেলার শ্রীসূর্য পাহাড় মহাপীঠস্থান অন্যতম। গোয়ালপাড়া শহর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনসমৃদ্ধ শ্রীসূর্য পাহাড় পীঠস্থানে উদ্ধার হওয়া অসংখ্য পাথরের মূর্তি ও ভাস্কর্যের জন্য এই তীর্থক্ষেত্রটি প্রাচীনকাল থেকেই হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের মিলনভূমি হিসেবে পরিচিত। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইলোরা তথা দ্বিতীয় কাশীধাম খ্যাত শ্রীসূর্য পাহাড়ে ইতিমধ্যে পুরাতত্ত্ব বিভাগ খননকার্য চালিয়ে বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধার করেছে। ৯৯,৯৯৯টি শিলাখোদিত শিবলিঙ্গ সহ ভাস্কর্য বিদ্যমান থাকার জনপ্রিয় বিশ্বাস রয়েছে এই শ্রীসূর্য পাহাড় মহাপীঠস্থানে। বহু বছর ধরে মাঘী পূর্ণিমা উপলক্ষে বিষ্ণু যজ্ঞ সহ মেলা ও মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।