গয়া
লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পেশ করা মন্ত্রিত্ব বাতিল বিলের সমর্থনে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোটমুখী বিহারে গয়ার জনসভা থেকে সাফ জানালেন, ‘জেলে বসে সরকার চালানো যাবে না।’
এপ্রসঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, ‘কোনও সরকারি কর্মচারী ৫০ ঘণ্টা জেলে থাকলে তাঁর চাকরি চলে যায়। সে তিনি গাড়ির চালক বা কেরানি পদেই থাকুন কিংবা পিয়ন, অথবা বড়ো কোনও আধিকারিক। তাহলে মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, এমনকী প্রধানমন্ত্রীও জেলে থেকে কীভাবে সরকার চালাতে পারেন! কেন জেলে থাকলে মন্ত্রিত্ব যাবে না!’
নাম না করেই কার্যত বিঁধেছেন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী তথা বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব থেকে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। জেলে থেকে সরকার চালানোর সাম্প্রতিক কিছু নজিরও তুলে ধরেছেন তিনি। মোদি বলেন, ‘কিছুদিন আগেও আমরা দেখেছি, কী ভাবে জেলে বসে বসে ফাইলে সই করা হচ্ছিল। সরকারের নির্দেশিকা কী ভাবে জেল থেকে জারি করা হচ্ছিল। নেতারাই যদি এমন আচরণ করেন, তাহলে আমরা কী ভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করব? এনডিএ সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন আনতে চায়। এই আইনের আওতায় প্রধানমন্ত্রীও রয়েছেন। ইতিমধ্যেই লোকসভায় এসংক্রান্ত বিল আনা হয়েছে।’
সম্প্রতি দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। কিন্তু তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সেসময় ইস্তফা দেননি। জেল থেকেই সরকার পরিচালনা করেছিলেন। মাস ছয়েক পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিন পান কেজরি। জেলমুক্তির পর তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দায়িত্ব তুলে দেন অতীশীর হাতে। প্রধানমন্ত্রীর এদিনের বক্তব্য নিঃসন্দেহে সেই ঘটনাকে মনে করায়।
লোকসভায় শাহের পেশ করা ১৩০ তম সংবিধান সংশোধনী বিলের বিরোধিতায় শুরু থেকেই সরব বিরোধীরা। অভিযোগ, এই বিল আইনে পরিণত হলে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন সরকার তা রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগাবে। ইডি, সিবিআইয়ের মতো সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা আরও সহজ হবে। বুধবার লোকসভায় এই বিল পেশের সময় বিরোধীরা তুমুল হট্টগোল করেছিলেন। লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে হয়েছিল। এমনকী, বিলের কাগজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকেদিকে ছো়ড়া হয়েছিল। এদিন প্রধানমন্ত্রী গয়ার জনসভায় তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সেই বিলের সমর্থনেই সওয়াল করলেন।
এদিন গয়ার জনসভার আগে একটি সরকারি অনুষ্ঠানেও যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মোদি।
