নয়াদিল্লি। ৯ আগস্ট
প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে নতুন নজির গড়ল ভারত। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৫০,৫৯০ কোটি টাকা, যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। শনিবার এই তথ্য দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি জানান, গত অর্থবর্ষে (২০২৩-২৪) যেখানে উৎপাদনের অঙ্ক ছিল ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকা, সেখানে চলতি অর্থবর্ষে বৃদ্ধি হয়েছে ১৮ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের তুলনায় (৭৯,০৭১ কোটি টাকা) বৃদ্ধি প্রায় ৯০ শতাংশ।
প্রতিরক্ষা সরকারি সংস্থা (ডিপিএসইউ) ও অন্যান্য পাবলিক সেক্টর ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদনের প্রায় ৭৭ শতাংশ এসেছে সরকারি ক্ষেত্র থেকে, বাকি ২৩ শতাংশ দিয়েছে বেসরকারি শিল্প। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও বেড়েছে—২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের ২১ শতাংশ থেকে ২০২৪-২৫-এ তা হয়েছে ২৩ শতাংশ।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই সাফল্যের জন্য প্রতিরক্ষা উৎপাদন দফতর, সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি শিল্পের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর মতে, এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা প্রমাণ করছে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। প্রতি বছরই সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কৃতিত্ব রাজনাথ সিং দিয়েছেন বিগত দশকে নেওয়া নীতি সংস্কার, ব্যবসার সহজ পরিবেশ এবং দেশীয়করণের উপর মোদি সরকারের কৌশলগত জোরকে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সরকারি সংস্থার উৎপাদন বেড়েছে ১৬ শতাংশ, বেসরকারি খাতের উৎপাদন বেড়েছে ২৮ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির অগ্রগতির ফলেই এই ঐতিহাসিক সাফল্য এসেছে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে গড়ে তোলা এবং রফতানি সম্ভাবনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা ইতিমধ্যেই ইতিবাচক ফল দিয়েছে। আগামী দিনে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন আরও গতিময় হবে বলে আশাবাদী কেন্দ্র।