গুয়াহাটি৷ ৯ আগস্ট
খিলঞ্জিয়াদের অস্ত্রের অনুজ্ঞাপত্র দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করল নারী নাগরিক মঞ্চ৷ এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিতে সংগঠনটি রাজ্য সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছে৷ রাজ্যের প্রথম সারির মহিলা সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, সরকারের এমন সিদ্ধান্তে রাজ্যে বন্দুক সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ বাড়বে লিঙ্গভিত্তিক হিংসা এবং ছড়াবে সামাজিক সংঘাত৷
শনিবার নারী নাগরিক মঞ্চের এক সভায় বলা হয়, নাগরিকদের অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করার চেয়ে সরকারের উচিত শক্তিশালী আইন প্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া৷ দশকের পর দশক জঙ্গি কার্যকলাপ চলার পর যখন বহু জঙ্গি অস্ত্র সমর্পণ করেছে তখন সরকারের অস্ত্রের অনুজ্ঞাপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত হীতে বিপরীত হতে পারে৷ সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, অসমের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি৷ এছাড়াও জনস্বার্থ মামলা দায়ের এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোরও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বৈঠকে৷
অসম ক্যাবিনেট রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকায় খিলঞ্জিয়াদের অস্ত্রের অনুজ্ঞাপত্র প্রদানে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে ২৮ মে৷ বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত ধুবড়ি, মরিগাঁও, বরপেটা, নগাঁও, দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর, রূপহী, ধিং, জনিয়া জেলায় খিলঞ্জিয়াদের অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার৷ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা সহ অনেকেই সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন৷ বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের জন্য বিপজ্জনক আখ্যায়িত করে তারা এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন৷
