শনবিলের উন্নয়নে বরাদ্দ একশো কোটি টাকা কীভাবে ব্যয় করা হবে এনিয়ে আন্তরিক রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল ছুটে এলেন শনবিলে। এছাড়াও শনবিল পরিদর্শনে বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে এসেছেন অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি কৈলাসচন্দ্র সামারিয়া। সঙ্গে এসেছেন মীন বিভাগের ডিরেক্টর গৌরীশংকর দাস, মীন বিভাগের যুগ্ম সঞ্চালক ড. রমেন্দ্রচন্দ্র বর্মন, অসম মৎস্য উন্নয়ন নিগমের জেনারেল ম্যানেজার দেবব্রত দাস, জেলা মীন আধিকারিক, রাতাবাড়ির বিধায়ক বিজয় মালাকার সহ বিভাগীয় কিছু কর্তা।
শনিবার দুপুরে তাঁরা নৌকায় শনবিল পরিদর্শন করেন। বিভাগীয় বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ শনবিলের দেবদ্বারে পৌঁছান অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি। সেখানে তিনি বিভাগীয় কর্মীদের নিয়ে কিছু সময় আলোচনা করেন। কিছুক্ষণ পর জেলা পরিষদ গঠনের অনুষ্ঠান শেষে দেবদ্বারে পৌঁছান রাজ্যের মীন ও অন্যান্য বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল এবং রাতাবাড়ির বিধায়ক বিজয় মালাকার। সবাই মিলে দেবদ্বার থেকে নৌকায় ছুটেন শনবিল পরিদর্শনে। পরে ফাকুয়াগ্রামে সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিভাগীয় মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, শনবিলের উন্নয়নে বাজেটে একশো কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এখন এই অর্থরাশি কীভাবে পরিকল্পনামাফিক ব্যয় করে শুধু শনবিল নয়, রাজ্যের মৎস্য উৎপাদন সহ অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখা যায় এনিয়ে প্রচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, শনবিলে যাতে ১২ মাস জল ধরে রাখা যায় এনিয়ে পরিকল্পনা চলছে। চূড়ান্ত পরিকল্পনায় পৌঁছতে বছর তিনেক সময় লাগবে যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন। তাই কয়েকটি ধাপে কাজ চলবে। মন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শনবিলের উন্নয়নে যথেষ্ট যত্নবান। তাই ভাবতে হবে না। কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, তিনি এলাকায় আসার পর মানুষ দাবি করছেন রাস্তাঘাট নিয়ে। এ বিষয়ে ভাবতে হবে না। বর্ষা শেষে হয়ে যাবে সড়কের ব্যবস্থা। আসল বিষয় হল কীভাবে মাছের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করা যায়। এছাড়া শনবিল এলাকায় প্রতিদিন এক থেকে দেড় লক্ষ ডিম পাড়ে হাঁস, সেটা বাড়িয়ে যাতে ২৫ লক্ষ করা যায় এনিয়ে যত্নবান হতে আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, শনবিলে ট্যুরিজম, কৃষি, পশুপালন ইত্যাদি নিয়ে সরকার পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে। ধাপে-ধাপে বরাদ্দ হওয়া একশো কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। কিন্তু সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে হবে এই অঞ্চলের মানুষকেই। সবার সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। মৎস্য উৎপাদন বাড়িয়ে রাজ্যকে স্বাবলম্বী করতে হবে, ডিম উৎপাদন বাড়াতে হবে। পাশাপাশি পশুপালন, কৃষি ইত্যাদি দিয়ে আর্থ-সামাজিক বিপ্লবের ডাক দেন তিনি।
এদিন শনবিলের উন্নয়ন নিয়ে বিধায়ক বিজয় মালাকারের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।‌ তিনি বলেন, বিজয় মালাকার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলেই শনবিল নিয়ে কথা বলতেন। যার ফলশ্রুতিতে এই সাফল্য এসেছে।
রাতাবাড়ির বিধায়ক বিজয় মালাকার শনবিলের জন্য বরাদ্দ একশো কোটির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বলেন, শনবিলে অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি আসবেন, সেটা অনেক দূরের বিষয়। মৎস্য বিভাগের পদস্থ আমলা কতদিন এসেছেন। এখন যা ঘটছে ঘরের ছেলে কৃষ্ণেন্দু পাল মন্ত্রী হওয়ায়। বলেন, কৃষ্ণেন্দু পালের পরিবার আসলে রামকৃষ্ণনগরের। আর এখন তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের কিছু অংশ শনবিলে পড়েছে। যদিও বেশিরভাগ অংশ বর্তমান রামকৃষ্ণনগর বিধানসভায়। এছাড়াও বিশেষ করে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কথা। বলেন, ভারী বর্ষায় শনবিলে কখনই কোনও মুখ্যমন্ত্রী আসেননি একমাত্র হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ছাড়া। আর শনবিলের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে গেছেন তিনি। সে-সময় কথাও দিয়েছিলেন। ফলে একশো কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ওই অর্থ ছাড়াও তাঁর প্রচেষ্টায় ট্যুরিজমের জন্য আরও ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে যা আগামীদিনে সবাই দেখবেন।
এদিন তিনি বলেন, এতদিন নগেন্দ্রনগর, ফাকুয়াগ্রাম ইত্যাদি এলাকার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এবার এলাকাগুলি পাথারকান্দিতে যুক্ত হওয়ায় উন্নয়নের স্বাদ পাবেন। কিন্তু সদ্যসমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই এলাকায় কেন ভুগতে হয়েছে শাসক দলকে। এত কঠিন লড়াই হওয়ার ছিল না। বলেন, কৃষ্ণেন্দু পালের মতো মন্ত্রী রয়েছেন। তাই সংকীর্ণ রাজনীতি ছেড়ে উন্নয়নের দিশায় চলতে অনুরোধ জানান তিনি। অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি কৈলাস চন্দ্র সামারিয়া ও বিভাগীয় কোনও আধিকারিক এদিন বক্তব্য রাখেননি। তবে অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি যুগশঙ্খকে একথা বলেন, ফেইসওয়াই কাজ হবে, এখন রিডিং হচ্ছে। এদিন শনবিলকে দারুণ সুন্দর দেখাচ্ছিল। আকাশে কালো মেঘ আর কুয়াশার মতো বৃষ্টি, মৃদু বাতাস আর বিলের হালকা ঢেউ যা তাঁর মনকে এদিন স্পর্শ করেছে।‌ নৌকার ছাদে দাঁড়িয়ে সবার সঙ্গে তা উপভোগ করতে দেখা যায় অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারিকে।