ওয়েবডেস্ক। ১৬ জুন
ভারতীয় ভূখণ্ডে অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশ করে ভারতীয় কৃষককে তুলে নিয়ে গেল একদল বাংলাদেশি দুষ্কৃতী। কাটিগড়ার ভারত-বাংলা সীমান্তের চণ্ডীনগরে সংঘটিত হয়েছে চাঞ্চল্যকর এমন ঘটনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তের ওই এলাকায় দিনভর দফায় দফায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামলাতে বিএসএস সহ কাছাড় পুলিশের শীর্ষ কর্তারা সীমান্তে পৌঁছান। অপহৃত ভারতীয় কৃষককে উদ্ধার করতে বিজিবির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে বিএসএফ।
কাছাড় জেলার কাটিগড়ার ভারত-বাংলা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার বাহিরে রয়েছে বিশাল ভারতীয় ভূখণ্ড। আর ওই ভূখণ্ডে গিয়ে সচরাচর চাষাবাদ করেন ভারতীয় কৃষকরা। সীমান্তে প্রহরারত বিএসএফের অনুমতি সাপেক্ষ চাষিরা ফ্যান্সিংয়ের বাহিরের ওই ভূমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন লোকজন। আর ওই ভারতীয় ভূখণ্ড থেকেই মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় চণ্ডীনগর দ্বিতীয় খণ্ড গ্রামের রঞ্জিত দাস (৬০) নামের এক কৃষককে বলপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বাংলাদেশের একদল দুস্কৃতি। সীমান্তের ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে ঘাস আনতে গিয়েছিলেন ওই কৃষক। বিষয়টা প্রত্যক্ষ করে রঞ্জিত দাসকে অপহরণকারীদের কবল থেকে রক্ষা করতে তাঁর ভাই এগিয়ে গেলেও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুস্কৃতিরা তাঁর দিকে তেড়ে আসেন। আক্রমণের চেষ্টাও চালান।ফলে রঞ্জিতবাবুকে টেনেহিঁচড়ে নৌকোয় তুলে ওপার বাংলায় নিয়ে যায়।ভারতীয় কৃষককে বাংলাদেশের দুস্কৃতিরা অপহরণ করার এই ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো হইচই পড়ে যায়।খবর পৌঁছায় রঞ্জিত দাসের বাড়িতেও। খবর পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে পড়িমরি করে সীমান্তের ফ্যান্সিংয়ে থাকা ৩১ নম্বর গেটে কর্মরত বিএসএফ জওয়ানকে বিষয়টা জানান অপহৃত রঞ্জিত দাসের পুত্র সুজিত দাস। কর্তব্যরত ওই বিএসএফ জওয়ান বিষয়টা শুনে বিওপিতে (বর্ডার আউটপোস্ট) গিয়ে জানানোর পরামর্শ দেন। বিএসএফ জওয়ানের এমন পরামর্শ শুনে সুজিত দৌড়ে ছুটে যান বিওপিতে। বিওপির শীর্ষ কর্তাকে ঘটনার কথা জানান। সুজিত দাস নিজে যুগশঙ্খকে এসব কথা জানিয়ে বলেন,তাঁর কাছ থেকে ঘটনার কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গেই ৩১ নম্বর গেটে ছুটে যান বিওপির ইনচার্জ। শুরু হয় অপহৃত রঞ্জিত দাসকে উদ্ধারের কসরত। কিন্তু কিছুতেই তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি।
এদিকে, এই ঘটনা চাউর হওয়ার পর সীমান্তে লোকজন জড়ো হতে শুরু করেন। দেখা দেয় উত্তেজনাও। ভারতীয় ওই কৃষককে উদ্ধারের দাবিতে সরব হন স্থানীয় মানুষ। অপহৃত কৃষকের বাড়িতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিকটাত্মীয়রা। ধীরে ধীরে লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। ঘটনার খবর পেয়ে শিলচর থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কাছাড়ের সিনিয়র পুলিশ সুপার সঞ্জিতকুমার শইকিয়া সহ বিশাল পুলিশ দল। বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকরাও পৌছান। শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ এবং উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক জাকারিয়া আহমদও ঘটনার খোঁজ নিতে পৌঁছান। পুলিশ,বিএসএফের আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন তাঁরা। কিন্তু কোন ভাবেই অপহৃত রঞ্জিত দাসকে উদ্ধারের ব্যাপারে ইতিবাচক কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। সীমান্তে তখন অসংখ্য মানুষের ভিড়।অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারের দাবিতে মাঝে মাঝে চলছিল চিৎকার চেচামেচি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার আগে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে স্থানীয়দের। সীমান্তে কিন্নখালে থাকা বিএসএফের বিওপির গেটের সামনে গিয়ে ঘেরাও করার চেষ্টা চালান লোকজন। তখন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে একপ্রকার ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন একাংশ উত্তেজিত লোক। ঘটনার পর প্রায় ৮ ঘন্টা কেটে গেলেও কেন অপহৃতকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এনিয়ে বিএসএফের দিকে প্রশ্ন ছুড়েন উত্তেজিতরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ছুটে আসেন সিনিয়র পুলিশ সুপার সহ পদস্থ আধিকারিকরা।উত্তেজিত লোকদের বুঝিয়ে সুজিয়ে বিওপির সামনা থেকে সরিয়ে নেয় পুলিশ।এপ্রতিবেদন তৈরি করা পর্যন্ত অপহৃত রঞ্জিত দাস বাংলাদেশের দুস্কৃতিদের কবলেই রয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে বিএসএফ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিজিবির শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, চাপে পড়ে চাষি রঞ্জিত দাসকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

error: Content is protected !!