ওয়েবডেস্ক। ১৩ জুন
বেহাল ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের কালাইন-মালিডহর অংশ। নিত্যদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মানুষ। এক দুর্বিষহ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে পুরো বরাক। ত্রিপুরা, মিজোরামের মানুষও। বিষয়টি অনুধাবন করে বরাক উপত্যকা উন্নয়ন মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এনএইচআইডিসিএল পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামলেও ধুপে টিকছে না গর্ত ভরাট। ফলে বিড়ম্বনা বাড়ছে বৈ কমছে না।
বরাকের লাইফ লাইনখ্যাত ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের হাল ভাল নেই। কেমন আছে গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা। এনিয়ে নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। সংবাদ মাধ্যম, সামাজিক মাধ্যমের দৌলতে বিষয়টি সবারই জানা। বস্তুত, প্রতিদিনের আপডেট মিলছে ঘরে বসেই। আশার কথা হল, রাস্তার বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নেমেছে এনএইচআইডিসিএল। বরাক উপত্যকা উন্নয়ন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল ও মন্ত্রী কৌশিক রায়ের তৎপরতায় শুরু হয়েছে গর্ত ভরাট করার প্রাথমিক কাজও।
কাছাড় জেলা বিজেপি সহ-সভাপতি বিপ্লবকান্তি পাল জানিয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বে গুয়াহাটিতে গিয়ে দুই মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে জাতীয় সড়কের কঙ্কালসার অবস্থার কথা তুলে ধরেছিলেন এক প্রতিনিধি দল। এরপরই বর্ষার মরশুমে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ককে জনগণের চলাচলের উপযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি জানান, মন্ত্রীদের তৎপরতায় ইতিমধ্যে রাস্তার গর্ত ভরাট করার কাজ শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাতেও বোল্ডার ফেলে কিছু গর্ত ভরাট করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তবে বর্তমান সময়ে পূর্ণ সংস্কারের সম্ভাবনা অনেকটাই কম। কারণ বৃষ্টি বাদলের সময় পূর্ণ সংস্কার করা অনেক কঠিন কাজ। তবে রাস্তা যাতে যানবাহন চলাচলের উপযোগী থাকে তার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। বিপ্লব জানান, পুজোর আগে বিধস্ত এই রাস্তাকে সারিয়ে তোলা হবে।
এদিকে, শনিবার বৃষ্টি থাকায় দিনভর রাস্তার জন্য ভোগান্তির শিকার হয়েছেন লোকজন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছিল তীব্র যানজট। মালিডহর থেকে কালাইন পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ছিল। রাস্তার বৃহৎ বৃহৎ গর্তের মধ্যে গাড়ি ফেঁসে যাওয়ার মত ঘটনার ফলেই এমনটা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, শুধু শনিবার নয়, প্রতিদিনই এমনটা হচ্ছে। জল-কাদায় থই থই করছে পুরো রাস্তা। এহেন অবস্থায় প্রতিবাদের ভাষাটাও হারিয়ে ফেলেছেন সাধারণ মানুষ। ফলে জল-কাদায় নৃত্য করছেন একাংশ লোক। জল কাদামাখা কালাইনের রাজপথে একাংশ লোকের নৃত্য ইদানিং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাঙ্গাত্মক এসব নৃত্য খুব উপভোগও করছেন লোকজন। এই রাস্তা সংস্কারের নামে ১৫ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকার কেলেঙ্কারি নিয়েও সমালোচনা চলছে। মোটা অঙ্কের এই টাকা কোথায় গেল, তার তদন্তও চাইছেন বরাকের মানুষ।
এদিকে, কাটিগড়া চৌরঙ্গীতেও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে জাতীয় সড়ক। চৌরঙ্গী বাজারের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে বিপজ্জনকভাবে সৃষ্টি হয়েছে একাধিক গর্ত। ব্যস্ততম এই স্থানে যেভাবে গর্ত হয়েছে, তাতে যে কোনও সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

error: Content is protected !!