ওয়েবডেস্ক। ২৭ অক্টোবর
হাইলাকান্দি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহল হাইলাকান্দি জেলার কাটলিছড়ায় মেডিক্যাল কলেজের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রস্তাবিত স্থানটির বাস্তবসম্মত উপযোগিতা এবং রামকৃষ্ণনগরে নির্মীয়মাণ মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে এর দূরত্বের বিষয়টি খতিয়ে দেখেন তিন। পলিটিক্যাল ‘নয়, ‘লজিক্যাল’ স্থান নির্বাচনের নির্দেশ দেন জেলা আয়ুক্তকে।
প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে, মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের জন্য রাজনৈতিক লাভালাভের ঊর্ধ্বে উঠে যুক্তিসঙ্গত ও উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করতে জেলা আয়ুক্ত জয় বিকাশকে নির্দেশ দেন। তাঁর এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে হাইলাকান্দিতে প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজের স্থান নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রাপ্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, কাটলিছড়ায় প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহল রামকৃষ্ণনগরে নির্মীয়মাণ মেডিক্যাল কলেজ থেকে কাটলিছড়ার প্রস্তাবিত স্থানের দূরত্ব জানতে চান। সঙ্গে উপস্থিত কাটলিছড়ার বিধায়ক বিজয় মালাকার জানান, দুই স্থানের দূরত্ব প্রায় ২৮ কিলোমিটার। এই দূরত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাটলিছড়ায় মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাবের বাস্তবসম্মত দিকগুলি খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। অন্যদিকে, সঙ্গে থাকা হাইলাকান্দির বিধায়ক ড. মিলন দাস কাটলিছড়ার প্রস্তাবিত স্থানে মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
মেডিক্যাল কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থান নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। জেলার ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, রোগীদের যাতায়াতের সুবিধা, পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার চাহিদা এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসা পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের সম্ভাবনা—সবকিছু বিবেচনা করেই উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই বিষয়গুলির পাশাপাশি প্রস্তাবিত স্থানটির সামগ্রিক উপযোগিতাও গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, মঙ্গলবার হাইলাকান্দি সফরে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহল প্রথমে হাইলাকান্দির এসকে রায় অসামরিক চিকিৎসালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি ব্লাড ব্যাংক, আইসিইউ এবং নির্মীয়মাণ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট মাতৃ ও শিশু পরিচর্যা বিভাগের ভবন ঘুরে দেখেন। চিকিৎসালয়ের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরিকাঠামোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তুলনামূলকভাবে প্রত্যন্ত জেলা হওয়া সত্ত্বেও হাইলাকান্দির স্বাস্থ্য পরিষেবার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই ১০০ শয্যাবিশিষ্ট মাতৃ ও শিশু পরিচর্যা বিভাগের পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, হাসপাতালটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনার লক্ষ্যে শীঘ্রই চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। নতুন এই বিভাগ চালু হলে বর্তমান হাসপাতালের উপর রোগীর চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরবর্তীতে জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহল, হাইলাকান্দির অভিভাবক মন্ত্রী কৌশিক রায় এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (এনএইচএম) ম্যানেজিং ডিরেক্টর স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কাজকর্ম ও জেলার সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং চলমান প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই সফরে জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের স্থান নির্ধারণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে কাটলিছড়ায় প্রস্তাবিত স্থানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়, তা এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে বাস্তব পরিস্থিতি ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থান নির্বাচন করা হলে জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
