ওয়েবডেস্ক। ২৩ অক্টোবর
ফ্রান্সে হিংসাত্মক বিক্ষোভ এবং ভারতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে কংগ্রেস ও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ শানাল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, এই ঘটনায় দেশে অস্থিরতা তৈরি এবং নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত, ফ্রান্স, ইতালি-সহ ১৩টি দেশে মোট ১০১টি সংগঠনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন বিক্ষোভের সমন্বয়, আয়োজন অথবা প্রচারে ভূমিকা পালন করছে। প্রতিবেদনে ফ্রান্সের অস্থিরতার সঙ্গে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ‘ইন্ডিয়ান অ্যালায়েন্স প্যারিস’ নামে একটি সংগঠনের উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফ্রান্স ও ভারতের বিক্ষোভের মধ্যে সমন্বয় সাধনে এই সংগঠনের ভূমিকা ছিল। পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠন, ছাত্র-যুব সংগঠন, কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক গোষ্ঠী এবং ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠনগুলির মধ্যে কথিত যোগাযোগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক ও সাংহাইভিত্তিক ধনকুবের নেভিল রয় সিংহমের অর্থপুষ্ট বামপন্থী নেটওয়ার্ক এবং ‘প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি সংগঠনের দিকেও অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। তবে এগুলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উত্থাপিত দাবি, প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়।
এই প্রতিবেদন সামনে আসার পর বৃহস্পতিবার কংগ্রেসকে নিশানা করেন বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দেশের সামনে নৈরাজ্য ও বিশ্বাসঘাতকতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরছেন। বিদেশি সংগঠনগুলির সঙ্গে কথিত যোগসূত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাহুলকে ‘মীরজাফর’ বলেও আক্রমণ করেন। বিজেপির আর এক মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারীও দাবি করেন, ফ্রান্স, আলবেনিয়া ও ভারতের বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগের পালটা জবাব দিয়েছে কংগ্রেস। দলের নেতা জয়রাম রমেশের দাবি, নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের সরকার বিভিন্ন অভিযোগের মাধ্যমে জনসাধারণের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার আশঙ্কা নিয়ে কংগ্রেসের অভিযোগকে এভাবে খারিজ করা যায় না। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার ফলে ১০ কোটিরও বেশি নাগরিকের ভোটাধিকার বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফলে ফ্রান্সের বিক্ষোভ এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে যোগসূত্র নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে। তবে বিদেশি সংগঠনের সঙ্গে কংগ্রেসের কথিত যোগসাজশের অভিযোগ এবং আন্দোলনগুলির মধ্যে সমন্বয়ের দাবি নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
