ওয়েবডেস্ক। ১৬ অগস্ট
ঝাড়খণ্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলন আরও তীব্র করল চাকরিপ্রার্থীরা। শাসক ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁদের দাবিকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগ দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। আগামী ২০ অগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়েরও ঘোষণা করেছে ‘ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন-ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন সংস্কার মঞ্চ’।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ও কংগ্রেসের জোট সরকার তাঁদের দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। আন্দোলনের নেতা রবীন্দ্র পাশোয়ানের দাবি, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী পড়ুয়াদের পাশে থাকার কথা বললেও বাস্তবে এখনও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাই রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের কাছে তাঁদের আবেদন, হেমন্ত সোরেন সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করতে হবে।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সরকার এখনও তাঁদের দাবিগুলি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, রাহুল যদি সত্যিই আন্দোলনকারীদের পাশে থাকেন, তা হলে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে। তা না হলে জোট সরকার থেকে কংগ্রেসের সমর্থন প্রত্যাহার করতে হবে। তাঁদের দাবি, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে যেসব পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলি বাতিল করতে হবে এবং গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হাতে তুলে দিতে হবে।আন্দোলনকারী ছাত্রনেতা রবীন্দ্র পাশোয়ান জানিয়েছেন, এত দিন অহিংস ও শান্তিপূর্ণ পথেই সরকারের কাছে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন তাঁরা। কিন্তু প্রশাসনের তরফে কোনও ইতিবাচক সাড়া না মেলায় আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘গান্ধীজির পথে হেঁটে দেখেছি, এ বার ভগৎ সিং হওয়ার সময়।’পাশোয়ানের দাবি, আগামী ১৮ অগস্টের মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনা, অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে ২০ অগস্ট রাঁচিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করবেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্র-যুবরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রয়োজনে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেও তাঁরা প্রস্তুত, তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।এদিকে, নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবিকে সমর্থন করে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক চম্পাই সোরেন। জামশেদপুরের ভুইয়াঁডিহতে তিনি বলেন, সরকার যদি কোনও নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকে, তা হলে কেন্দ্রীয় তদন্তের সুপারিশ করতে আপত্তি কোথায়?তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। স্বাধীনতা দিবসে দেওয়া ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা নানা প্রশ্ন চাকরিপ্রার্থী একটি প্রজন্মের আস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং প্রভাব বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ন্যায়বিচারের ভিত্তি হতে হবে তথ্য ও প্রমাণ।
