ওয়েবডেস্ক। ১৭ জুন
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সেজে চেম্বার গড়ে রোগী দেখেন দু’জন ফার্মাসিস্ট। লাইন পেতে বসে রয়েছেন রোগীও। বিষয়টা দেখে হতচকিত হয়ে যান বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। সঙ্গে সঙ্গেই নেন অ্যাকশন। তাঁর নির্দেশে এরপর চেম্বারগুলো সিল করলেন সার্কল ম্যাজিস্ট্রেট। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কিছু বিনামূল্যের সরকারি ওষুধও। বুধবার কাটিগড়ার জলালপুর ব্লক প্রাইমারি হেলথ সেন্টারে প্রকাশ্যে এসেছে চাঞ্চল্যকর এমন ঘটনা।
বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য এদিন জলালপুর ব্লক প্রাইমারি হেলথ সেন্টারের জন-আরোগ্য সমিতির উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সংবর্ধনা গ্রহণ করতে হাসপাতালে গিয়ে উপস্থিত হন বিধায়ক। ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের কাছাড়ের যুগ্ম সঞ্চালক ডা. সুমনা নাইডিং, কাটিগড়ার সার্কল অফিসার যাত্রাকান্ত কর্মকারসহ অন্যান্যরা। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠান সেরে বিধায়ক কমলাক্ষ হাসপাতাল পরিদর্শন করতে গেলে ঘটে যায় বিপত্তি। হাসপাতালের চূড়ান্ত অব্যবস্থা দেখে রীতিমতো হতচকিত হয়ে যান বিধায়ক সহ অন্যান্যরা। পুরো হাসপাতালজুড়ে অব্যবস্থার চিত্র স্পষ্ট। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হল সরকারি এই হাসপাতালের ভেতরেই চেম্বার গড়ে দিব্যি রোগী দেখছেন ফার্মাসিস্টরা। বিধায়কের পরিদর্শনের সময় এই বিষয়টি ধরা পড়ার পর হতচকিত হয়ে যান তিনি। সূত্র জানায়, হাসপাতালের দু’জন ফার্মাসিস্ট ক্রমে আব্দুল হক, জহিরুল ইসলাম
নিজেদের সরকারি আবাসের পাশেই গড়ে তুলেছেন চেম্বার। আর ওই চেম্বারে বসেই রোগী দেখেন। ওষুধও দেন। ওই চেম্বার দু’টি গিয়ে স্বচক্ষে রোগীর উপস্থিতি দেখেন বিধায়ক। শুধু তাই নয়, চেম্বারের ভেতরে বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামসহ ওষুধপত্রও প্রত্যক্ষ করেন। চেম্বারে বসে থাকা একাংশ মহিলার কাছে কেন এসেছেন বলে বিধায়ক জানতে চাইলে চিকিৎসার জন্যই তাঁরা এসেছেন বলে স্পষ্ট জানান। সঙ্গে সঙ্গেই এনিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করেন বিধায়ক। কিন্তু কারও কাছে যুতসই কোনও জবাব ছিল না। ফলে সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাকশন শুরু হয়ে যায়। বিধায়কের সঙ্গে থাকা সার্কল ম্যাজিস্ট্রেট যাত্রাকান্ত কর্মকার ফার্মাসিস্টদের চেম্বার থেকে বিভিন্ন ধরনের বিনামূল্যের ওষুধ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি চেম্বার দু’টিও সিল করে দেন।
বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ যুগশঙ্খকে জানান, জলালপুর সরকারি হাসপাতালে বসে চিকিৎসার নামে রীতিমতো ব্যবসা চালাচ্ছেন ফার্মাসিস্টরা। পরিদর্শনে গিয়ে এমনটা প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। ফার্মাসিস্টরা চিকিৎসক সেজে হাসপাতালের ভেতরে চেম্বার করে দিব্যি রোগী দেখছেন। চেম্বারগুলোর ভেতর থেকে ওষুধপত্র সহ চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ধার করার পাশাপাশি দু’টি চেম্বার সিল করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সঞ্চালককে নির্দেশও দিয়েছেন।
সার্কল অফিসার যাত্রাকান্ত কর্মকার জানান, জলালপুর হাসপাতালে একটা অনুষ্ঠান ছিল। ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। অনুষ্ঠান সেরে হাসপাতালে পরিদর্শন করেন বিধায়ক। আর তখনও হাসপাতালে কর্মরত দু’জন ফার্মাসিস্টের সরকারি আবাসের সঙ্গে দু’টা ক্যাবিন বিধায়কের নজরে আসে। দেখা গেছে, ক্যাবিন গড়ে ওখানে বসে রোগী দেখেন ফার্মাসিস্টরা। তাঁদের ওই ক্যাবিন থেকে বিভিন্ন ধরনের সরকারি ওষুধও পাওয়া যায়। ওষুধগুলো বাজেয়াপ্ত করে যুগ্ম স্বাস্থ্য সঞ্চালক ডা. সুমনা নাইডিঙের কাছে সমঝে দেওয়া হয়। দু’টি চেম্বার সিল করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে ভুয়ো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকার সময় একটা সরকারি হাসপাতালের ভেতরে চেম্বার গড়ে চিকিৎসক সেজে রোগী দেখার বিষয়টি সামনে আসার পর রীতিমতো চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। বিধায়ক অবশ্য জানিয়েছেন, বিষয়টা ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তা-ই এখন দেখার।
