ওয়েবডেস্ক। ২ জুন
ভারতের প্রাচীন জ্ঞান-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ বিষয়ক এক বিশেষ একদিবসীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জ্ঞান ভারতম্ ক্লাস্টার কেন্দ্র’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে গবেষক, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের উৎসাহী অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানের সূচনায় উপস্থিত অতিথিরা প্রাচীন পাণ্ডুলিপির গুরুত্ব ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। কর্মসূচিতে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা স্নিগ্ধা দাস রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃত বিভাগের অধ্যক্ষ শান্তি পোখরেল এবং জ্ঞান ভারতম্ ক্লাস্টার কেন্দ্রের সংযোজক ও নির্দেশক ড. গোবিন্দ শর্মা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যক্ষ শান্তি পোখরেল ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরার ধারক ও বাহক হিসেবে পাণ্ডুলিপির অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাচীন শাস্ত্র, সাহিত্য, দর্শন ও ইতিহাসের অমূল্য তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপির ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই এগুলিকে সুরক্ষিত রাখা বর্তমান প্রজন্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মুখ্য অতিথি অধ্যাপিকা স্নিগ্ধা দাস রায় তাঁর বক্তব্যে বিভিন্ন ভাষায় রচিত প্রাচীন পাণ্ডুলিপির পাঠোদ্ধার, সংরক্ষণ এবং গবেষণার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পাণ্ডুলিপির রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে বহু মূল্যবান পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব নথিকে সংরক্ষণ করতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত মানবসম্পদেরও প্রয়োজন।
কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল ড. গোবিন্দ শর্মার বিশেষ বক্তৃতা। তিনি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের আধুনিক পদ্ধতি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বহু প্রাচীন মূল্যবান পাণ্ডুলিপি আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সেগুলিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সহজলভ্য করে তোলা যায়।’ তাঁর বক্তব্যে ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও বিশেষভাবে উঠে আসে।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে পাণ্ডুলিপি চিহ্নিতকরণ, সংরক্ষণ কৌশল, পরিবেশগত সুরক্ষা, ক্ষয়রোধ এবং ডিজিটাল সংরক্ষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান।
প্রশিক্ষণ শিবিরে সংস্কৃত বিভাগের গবেষক-গবেষিকা এবং স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রাচীন পাণ্ডুলিপির সংরক্ষণ সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞান ও সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর যুগে দেশের প্রাচীন ঐতিহ্য ও জ্ঞানভাণ্ডার রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। পাণ্ডুলিপির মতো অমূল্য ঐতিহাসিক সম্পদকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রচেষ্টা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
