ওয়েবডেস্ক। ২ জুন
জনগণের আস্থা অর্জন এবং নির্বাচনী সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন দলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম, ত্যাগ এবং নিষ্ঠার ফলেই এই জয় সম্ভব হয়েছে। এখন নির্বাচন শেষ হয়েছে, এবার উন্নয়নের রাজনীতি করার সময়। আগামী দিনে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। মঙ্গলবার শ্রীকোণা মণ্ডল বিজেপির উদ্যোগে বড়যাত্রাপুরের এক বিবাহ বাসরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথাগুলো বলেন বড়খলার বিধায়ক কিশোর নাথ।
এদিন বড়খলা বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক কিশোর নাথকে সংবর্ধনা জানাতে শ্রীকোণা মণ্ডল বিজেপির উদ্যোগে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে বিধায়ককে ফুলের তোড়া, উত্তরীয়, স্মারক এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানও হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নবনির্বাচিত বিধায়ক কিশোর নাথ দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে রাজ্যে যেভাবে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যে চেহারা আরও পাল্টে যাবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় কর্মীদের অবদান এবং সাংগঠনিক শক্তির বিষয়টি তুলে ধরেন। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বড়খলা মণ্ডলের প্রাক্তন সভাপতি অরিন্দম নাথ দলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়েও অন্য দলের হয়ে কাজ করা কিংবা দলবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়া অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য বিষয়।
অরিন্দম নাথ আরও বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে অনেকেই প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন যে কিশোর নাথ নির্বাচিত হয়ে বিধায়ক হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন, দলীয় কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং সাংগঠনিক শক্তির ফলে সেই সমস্ত নেতিবাচক মন্তব্য আজ বাস্তবতার কাছে পরাজিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিশোর নাথ দলীয় টিকিট পাওয়ার পর থেকেই শ্রীকোণা মণ্ডল এলাকায় কিছু বিজেপি নেতা ও কর্মী প্রকাশ্যে কিংবা পরোক্ষভাবে দলবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এমনকি অনেকেই দলে থেকে দলের ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। দলের আদর্শ ও নীতিকে গুরুত্ব না দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ফলেই এই ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন অরিন্দম নাথ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা বিজেপির প্রাক্তন উপ সভাপতি তথা বিজেপি ওবিসি বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান রমাংশু শেখর নাথ। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর দলীয় বিধায়ক না থাকায় বড়খলায় কোনও উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। পাঁচ বছরে গোটা এলাকার রাস্তাঘাট বেহাল রূপ ধারণ করেছে। এর আগের কার্যকালে মাত্র ৪২ ভোটে জিতেও বড়খলায় যথেষ্ঠ কাজ করেছেন কিশোর নাথ। তবে এবার ঝুলি ভরে ভোট দিয়েছেন বড়খলাবাসী। যথারীতি অনেক বড় ব্যবধানে জয়ীও হয়েছেন কিশোর নাথ। তাই তাঁর কাছে অনেক প্রত্যাশা রয়েছে বড়খলাবাসীর।
সভায় উপস্থিত অন্য বক্তারাও একই সুরে বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে যারা ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্য হয়েও দলবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন, তাদের চিহ্নিত করে দলের পক্ষ থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। দলকে আরও শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ করতে হলে শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও মত প্রকাশ করেন তাঁরা। এদিনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও উৎসাহের সঞ্চার করেছে বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে দলীয় ঐক্য বজায় রেখে আগামী দিনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা। অনুষ্ঠান ঘিরে গোটা এলাকায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও চর্চার সৃষ্টি হয়েছে।
