ওয়েবডেস্ক৷ ৩১ মার্চ
ভোটের ময়দানে থাকা সবচেয়ে ধনী প্রার্থী হচ্ছেন রাহুল রায়৷ হাইলাকান্দির কংগ্ৰেস প্রার্থীর ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ২৬১ কোটি টাকা৷ বিন্নাকান্দির প্রার্থী বদরুদ্দিন আজমল রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে৷ তাঁর ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ হচ্ছে ২২৬ কোটি টাকা৷ সম্পত্তির নিরিখে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন লখিমপুরের কংগ্ৰেস প্রার্থী জয়ন্ত খাউন্ড৷ তাঁর ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ৬৭ কোটি টাকা৷ উল্টোদিকে, হাইলাকান্দি কেন্দ্ৰের দুই নিৰ্দল প্রার্থী ধ্ৰুব চক্রবৰ্তী এবং জীবন রায়ের সম্পত্তি শূন্য৷
মঙ্গলবার মনোনয়ন পত্ৰের সঙ্গে দাখিল করা প্রার্থীদের অ্যাফিডেভিট বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সামনে এনেছে অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্র্যাটিক রিফৰ্মস (এডিআর) নামের সংস্থা৷ তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভোটের ময়দানে কোটিপতি প্রার্থীদেরই ভিড়৷ ৭২২ জন প্ৰাৰ্থীর হলফনামা থেকে দেখা গেছে ২৮৫ জন, অৰ্থাৎ প্ৰায় ৩৯ শতাংশ প্ৰাৰ্থীর সম্পত্তির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি৷ ২০২১ সালের তুলনায় এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে৷
বিজেপি, কংগ্ৰেস সহ বিভিন্ন দলের মোট ৯৬ জন প্রার্থীর সম্পত্তির পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকার বেশি৷ দুই কোটি টাকা থেকে পাঁচ কোটি টাকা অবধি সম্পত্তি রয়েছে ১০৮ জন প্রার্থীর৷ ৫০ লক্ষ থেকে দুই কোটি টাকা অবধি সম্পত্তি রয়েছে ১৭০ জন প্রার্থীর৷ বিভিন্ন দলের মোট ৭২২ জন প্ৰাৰ্থীর ঘোষিত মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্ৰায় ২,৩৫২ কোটি টাকা৷ তাই এক জন প্ৰাৰ্থীর গড় সম্পত্তি দাঁড়িয়েছে প্ৰায় ৩.২৫ কোটি টাকা, যা ২০২১ সালে ছিল ২.১০ কোটি৷
বিজেপির ৯০ জন প্ৰাৰ্থীর মধ্যে ৭৯ জনই কোটিপতি৷ কংগ্ৰেসের ৯৯ প্রার্থীর মধ্যে ৬০ জন, এআইইউডিএফ-এর ৩০ জন প্ৰাৰ্থীর মধ্যে ১৬ জনের সম্পত্তির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি৷ সম্পত্তির নিরিখে শীৰ্ষে রয়েছেন হাইলাকান্দি কেন্দ্ৰের কংগ্ৰেস প্ৰাৰ্থী রাহুল রায়, যার ঘোষিত সম্পত্তি ২৬১ কোটিরও বেশি৷ প্ৰাক্তন মন্ত্ৰী গৌতম রায়ের পুত্ৰ রাহুলের স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৯.৩৯ কোটি টাকার, অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ২৫১.৮৫ কোটি টাকার৷
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিন্নাকান্দি কেন্দ্ৰের এআইইউডিএফ প্ৰধান বদরুদ্দিন আজমল, যার সম্পত্তি ২২৬ কোটির বেশি৷ আজমলের সম্পত্তি রয়েছে ৫৪.৭৪ কোটি টাকার, অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১৭৩.৫৬ কোটি টাকার৷ তৃতীয় স্থানে রয়েছেন রঙানদী কেন্দ্ৰের কংগ্ৰেস প্ৰাৰ্থী জয়ন্ত খাউন্ড, যার সম্পত্তি ৬৭ কোটিরও বেশি৷ জয়ন্তর স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৫৩.৬৯ কোটি টাকার, অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১৪.০৫ কোটি টাকার৷
উল্টোদিকে, ১৮৩ জন প্ৰাৰ্থীর সম্পত্তি ১০ লক্ষ টাকারও কম৷ এমনকি দু’জন প্ৰাৰ্থী তাঁদের হলফনামায় শূন্য সম্পত্তির কথাও উল্লেখ করেছেন৷ তাঁরা হলেন হাইলাকান্দি কেন্দ্ৰের দুই নিৰ্দল প্রার্থী ধ্ৰুব চক্রবৰ্তী এবং জীবন রায়৷ কয়েকজনের ক্ষেত্ৰে সম্পত্তির পরিমাণ মাত্ৰ কয়েকশো কিংবা কয়েক হাজার টাকা৷ তবে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ঋণ থাকা প্ৰাৰ্থীর তালিকায় রয়েছেন জয়ন্ত খাউন্ড, তাঁর ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৩৯ কোটি টাকা৷ সিসিবরগাঁওয়ের প্রার্থী নন্দিগিরি ভূঁইয়ার ঋণ রয়েছে ৩৯ কোটি টাকার৷ মুখ্যমন্ত্ৰী হিমন্ত বিশ্ব শৰ্মার ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১৬ কোটি টাকা৷
তাছাড়া এডিআরের রিপোৰ্ট অনুযায়ী, ভোটের ময়দানে থাকা বিভিন্ন দলের মোট ৭২২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০২ জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে ফৌজদারি অপরাধের মামলা৷ এরমধ্যে গুরতর অপরাধের মামলা রয়েছে ৮২ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে৷ কংগ্ৰেসের ৯৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৮ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে অপরাধের মামলা৷ বিজেপির ৯০ প্রার্থীর মধ্যে ৮ জন, অগপর ২৬ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন, এআইইউডিএফের ৩০ প্রার্থীর মধ্যে ১১ জন, রাইজর দলের ১৩ প্রার্থীর মধ্যে ২ জন, অসম জাতীয় পরিষদের ১০ প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা৷ প্রার্থীরা নিজেদের অ্যাফিডেভিটেই দাখিল করেছেন ওই তথ্য৷
রিপোৰ্ট অনুযায়ী, ৮ জন প্ৰাৰ্থীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ রয়েছে এবং ৯ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে৷ এছাড়া নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের মামলাও রয়েছে কয়েক জনের বিরুদ্ধে৷ এছাড়া আটটি কেন্দ্ৰকে ‘রেড অ্যালাৰ্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে রিপোৰ্টে, যেখানে তিন বা ততোধিক প্ৰাৰ্থীর নামে রয়েছে ফৌজদারি মামলা৷ সেই কেন্দ্ৰগুলি হচ্ছে আলগাপুর-কাটলিছড়া, সোনাই, বঢ়মপুর, বিজনি, বিন্নাকান্দি, বোকাখাত, দক্ষিণ করিমগঞ্জ ও গোরেশ্বর৷ ২০২১ সালের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, অপরাধের প্ৰবণতা খুব একটা কমেনি৷ বরং কিছু ক্ষেত্ৰে তা আরও বেড়েছে৷

error: Content is protected !!