যুগশঙ্খ প্রতিবেদন
গুয়াহাটি। ৯ আগস্ট

চলতি মাসেই অসমে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) বা নিবিড় সংশোধনের কাজ শুরু হবে। এর জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলা আয়ুক্তদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার (সিইও) অনুরাগ গোয়েল। শুধু তাই নয়, জেলার ইলেক্টোরাল রোল অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রোল অফিসার (এইআরও), বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-দের জেলায় অবস্থান করার কথাও গত ৪ আগস্ট জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন সিইও। এসআইআর-এর আধার হিসাবে ২০০৫ সালের ভোটার তালিকা বিবেচিত হবে। বিটিসি এলাকায় স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের নির্বাচন থাকায় ওই জেলার জন্য
পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলেও প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে।
সরকারি সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, জেলা আয়ুক্তদের উদ্দেশে রাজ্যের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার (সিইও) অনুরাগ গোয়েলের লেখা চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, গোটা দেশের সঙ্গে অসমেও ভারতীয় নির্বাচন কমিশন স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) বা নিবিড় সংশোধনের কাজ শুরু করবে। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যসূচি বাস্তবায়নে হাত দেবে নির্বাচন কমিশন। এর জন্য শীঘ্রই এর সময়সূচি ঘোষণা করতে পারে কমিশন। এই প্রেক্ষাপটে জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলা আয়ুক্তদের বেশ কিছু পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—দায়িত্বপ্রাপ্ত ইলেক্টোরাল রোল অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রোল অফিসার (এইআরও), বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-রা যথাস্থানে আছেন কি-না, তা নিশ্চিত করতে হবে। নতুন ভোটকেন্দ্রের জন্য রেশনালাইজেশনের পর অতিরিক্ত বিএলও চিহ্নিত করতে হবে, যাতে ইসিআই কর্তৃক রেশনালাইজেশন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে প্রয়োজনে তাদের নিয়োগ করা যায়। এসআইআর-এর সূচি ঘোষণার পর নির্বাচন শাখার নির্বাচন কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মী এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের এ সংক্রান্ত কাজ ছাড়া কোনও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
বিটিসির অধীন জেলাগুলি বিটিসি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কর্মকর্তা, ওই বিভাগের কর্মী ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের এসআইআর কাজে লাগানো যাবে না। ফলে ওইসব জেলার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এছাড়া ২০০৫ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৎকালীন নিবিড় সংশোধনের পর ইতিমধ্যেই অসমের সিইও ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি জেলা নির্বাচন আধিকারিক কর্তৃক সব স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অবগত করানোর কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রতিটি জেলায় জেলা যোগাযোগ কেন্দ্র (ডিসিসি) চালু করা হবে। এর জন্য জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের নির্দেশ প্রদান করে বলা হয় এর জন্য কর্মী নিয়োগ করতে। যাতে অফিস চলাকালীন সময়ে এসব কর্মীরা ফোনকলে দ্রুত সাড়া দেন। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন এনজিএসপি পোর্টালে এসব বিষয় ডিজিটালাইজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, বিহার নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই অসমেও ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) বা নিবিড় সংশোধন শুরু হওয়ার খবরে এমনিতেই শঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ।
প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে, এর জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন। এখন শুধু কাজ শুরু হবে। বিহার মডেলকে অনুসরণ করেই অসমে এসআইআর-এর কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যেই বিএলওদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে গেছে। জুন মাসে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে দফায়-দফায় ইলেক্টোরাল এক্সপার্ট, মাস্টার ট্রেনার, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও), অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও), বিএলও সুপারভাইজর ও বিএলও-দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর পরের ধাপে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা নিজেদের জেলায় এসে অন্যদের ট্রেনিং দিয়েছেন। জেলায়-জেলায় বিএলওদের ট্রেনিংও শেষ হয়ে গেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এ মাস থেকেই অসমে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন শুরু হয়ে যাবে।
বিহার মডেল অনুসরণ করে অসমে নিবিড় সংশোধন হবে, প্রাথমিকভাবে এটাই প্রশিক্ষণের সময় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এমনকী বিহারে যে ১১টি নথির ওপর ভিত্তি করে সংশোধন হচ্ছে, অসমেও এই ১১টি নথি ধরেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম নথি হল জন্মের প্রমাণপত্র। নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা সরকারি কর্মচারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নথি যাচাই করবেন। যাদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি আছে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাববে। বাকিরা বাদ পড়বেন।
উল্লেখ্য, বিহারে এসআইআর শেষে প্রায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ লোকের নাম বাদ পড়েছে। যা নিয়ে দেশজুড়ে চর্চা চলছে। টার্গেট করা হয়েছে শাসক দলকে। অসমের ক্ষেত্রে কী পরিস্থিতি হয়, তাই এখন দেখার।