ওয়েবডেস্ক। ১৬ জুন
আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি-সমঝোতার পথে এগোলেও ওয়াশিংটনের ওপর এখনও ‘গভীর অবিশ্বাস’ বজায় রয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ইরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলির কাছ থেকে পরিষেবা ফি নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে তেহরান।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, নতুন সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর কোনও ট্রানজিট কর আরোপ করা হবে না। তবে নৌ-চলাচল সংক্রান্ত পরিষেবা, পরিবেশ সুরক্ষা, জাহাজের বিমা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবার জন্য নির্দিষ্ট ফি নেওয়া হবে।
বাঘাই বলেন, ‘আমরা কখনওই প্রণালী পারাপারের জন্য কর আদায়ের পক্ষপাতী ছিলাম না। কিন্তু বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানের খরচ বাবদ ফি নেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা হলেও পারস্পরিক বিশ্বাসের ঘাটতি যে এখনও কাটেনি, তাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার নেতাদের দীর্ঘদিনের ভুল নীতির কারণেই তাদের প্রতি ইরানের গভীর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। ইরানের জনগণের আস্থা অর্জন করতে আমেরিকার এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
এদিকে, সাড়ে তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে শান্তি-সমঝোতা হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ইরানের দাবি, যুদ্ধের প্রকৃত অবসান ঘটাতে হলে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইজরায়েলি বাহিনীকে সরে যেতে হবে। তবে ইজরায়েল স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রয়োজন মনে করলে তারা লেবাননের সীমান্তবর্তী বাফার অঞ্চলে অবস্থান বজায় রাখবে।
মঙ্গলবার তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, আমেরিকার সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের গুরুত্বপূর্ণ অংশই হল লেবানন প্রশ্নের সমাধান। তাঁর কথায়, লেবাননের যুদ্ধের অবসান ছাড়া এই সংঘাতের পূর্ণ সমাপ্তি সম্ভব নয়। যুদ্ধ চলাকালীন দখল করা এলাকা থেকে ইজরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার না হলে যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলা যাবে না। আরাঘচি আরও সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে লেবাননের উপর ইজরায়েলের যে কোনও হামলাকে সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন হিসেবেই দেখা হবে।

error: Content is protected !!