ওয়েবডেস্ক। ১০ জুন
দীর্ঘদিন ধরে ভূমি সংক্রান্ত নানা জটিলতা, নামজারি, এনওসি ও জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে উদ্যোগী হলেন হাইলাকান্দি কেন্দ্রের বিধায়ক ড. মিলন দাস। বুধবার বিকেলে হাইলাকান্দির আবর্ত ভবনে জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এডিসি (ভূমি ও রাজস্ব), জেলার বিভিন্ন রাজস্ব চক্রের সার্কল অফিসার, বিভাগীয় কর্মচারী, পাটোয়ারি, সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের সদস্য, নাগরিক সুরক্ষা কমিটির প্রতিনিধিবৃন্দ, রামকৃষ্ণ মিশনের সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, পঞ্চায়েত সদস্য ও পঞ্চায়েত সভাপতিরা। বৈঠকে হাইলাকান্দি জেলার ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা এবং সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে জমি কেনাবেচা, নামজারি এবং নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিধায়ক ড. মিলন দাস বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পরম্পরাগত সম্পত্তির নথিপত্রে নামের অসঙ্গতি বা ভুল থাকার কারণে নামজারির আবেদন গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে অনলাইনে নাম সংশোধনের আবেদন করা হলেও অনেক আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যার সমাধানে অফলাইনে শুনানি সম্পন্ন করে নোটারি ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় নথি অনলাইনে আপলোড করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হলে আবেদন বাতিলের হার কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এনওসি সংক্রান্ত সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রতিবেশীদের সম্মতিপত্র বা এনওসি প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুপস্থিতি কিংবা অনীহার কারণে প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যৌথ হলফনামা (জয়েন্ট অ্যাফিডেভিট) গ্রহণের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে সীমানা সংক্রান্ত কোনো বিরোধ দেখা দিলে সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
এছাড়া পৈতৃক বা পরম্পরাগত সম্পত্তির নামজারির ক্ষেত্রে অনেক সময় মৃত বাবা, দাদা বা পূর্বপুরুষের প্যান কার্ড সংক্রান্ত নথির প্রয়োজন হয়। কিন্তু অধিকাংশ পরিবারের কাছে এসব নথি সংরক্ষিত না থাকায় নানা জটিলতা দেখা দেয়। এ প্রসঙ্গে বিধায়ক জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ভবিষ্যতে একটি পৃথক অনলাইন পোর্টাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
বৈঠকের শেষে উপস্থিত প্রতিনিধিরা ভূমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে গৃহীত উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং জনস্বার্থে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

error: Content is protected !!