করিম

করিম

বাইকামপুঞ্জি মেঘালয়ের অন্তর্ভুক্ত হলে অশান্ত হতে পারে অসম-মেঘালয় সীমান্ত, আশঙ্কা দুই ছাত্র সংস্থার
যুগশঙ্খ প্রতিবেদন
কাটিগড়া। ১০ আগস্ট
বাইকামপুঞ্জি মেঘালয়ের অন্তর্ভুক্ত হলে অশান্ত হতে পারে অসম-মেঘালয় সীমান্তের কাছাড়ের অংশ। এমন আশঙ্কা করছে দু’টি ছাত্র সংস্থা। বাইকামপুঞ্জি মেঘালয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার পর এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সংস্থা। অসমের এক ইঞ্চি জমি অন্য রাজ্যকে হস্তান্তর করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন থেকে অসম-মেঘালয়ের মধ্যে চলছে সীমাসমস্যা। রাজ্যের ১২টি স্থানে রয়েছে এই সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন থেকে ২ রাজ্য সরকারের মধ্যে চলে আসছে আলাপ-আলোচনা। প্রাপ্ত খবর মতে, প্রথম পর্যায়ে ৬টি স্থানের সীমাসমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দুই রাজ্য সরকারের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই হিসাবে ওই ৬টি স্থানে সার্ভে সহ জনগণের মতামত গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের এই ৬টি স্থানের মধ্যে রয়েছে কাছাড়ের কাটিগড়া সার্কলের বাইকামপুঞ্জি। সেখানকার ২৬০ হেক্টর জমিতে খাসি সম্প্রদায়ের ৩৭টি পরিবারের বসবাস থাকা ওই বাইকামপুঞ্জি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে সমস্যা চলছিল। শুক্রবার অসম-মেঘালয়ের যৌথ সার্ভের দল ওই এলাকায় এসে প্রতিটি ঘরে গিয়ে সার্ভে চালায়। সেখানে বসবাস করা প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মতামতও গ্রহণ করা হয়। সার্ভে দলে ছিলেন দুই রাজ্যের দু’জন নোডাল অফিসার এবং অন্যান্য কর্মীরা। ছিলেন সার্কল অফিসার পর্যায়ের আধিকারিকও। সূত্র বলছে, ওই জরিপে সেখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দা মেঘালয়ের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পক্ষে থাকলেও ৮/১০টি পরিবার অসম ছাড়তে নারাজ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
বাইকামপুঞ্জি মেঘালয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার এই সম্ভাবনা সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে অল অসম আদিবাসী ছাত্র সংস্থা সহ অল বরাকভ্যালি কার্বি ছাত্র সংস্থা। অসমের এক ইঞ্চি জমিও অন্য রাজ্যের কাছে হস্তান্তর করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দু’টি সংস্থা। তাদের অভিযোগ, দুই রাজ্যের সীমান্ত অঞ্চলে প্রায়ই মেঘালয়ের উগ্র খাসিরা প্রবেশ করে অসমের লোকদের কৃষিকাজে বাধা প্রদান সহ দাদাগিরি করে থাকেন। জমি হস্তান্তর হলে এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এতে হিংসাত্মক ঘটনার সূত্রপাত হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। বাইকামপুঞ্জি মেঘালয়ের অন্তর্ভুক্ত হলে মালিডহর, গুমড়া বাগান, জলালপুর সহ আশপাশের ৮ শতাধিক পরিবারে জীবিকা এবং সুরক্ষার বিষয়টি খাদের মুখে এসে দাঁড়াবে বলে মনে করে সংস্থা। ফলে বাইকামপুঞ্জি এলাকা মেঘালয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রতিহত করতে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ছাত্র সংস্থা।

error: Content is protected !!