যুগশঙ্খ প্রতিবেদন
বড়খলা৷ ১০ আগস্ট
সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয় বড়খলার এফওয়াইইউজি ছাত্র ভর্তি পরিচালন সমিতির ব্যবস্থাপনায় ছাত্র অভিষেক অনুষ্ঠান ‘দীক্ষারম্ভ’ আয়োজিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা, শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ ও দায়িত্ব সম্পর্কে পরিচিত করিয়ে দেওয়া এবং কলেজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে একটি সার্বিক ধারণা প্রদান করা। অনুষ্ঠান শুরু হয় কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত সরস্বতী বন্দনার মধ্য দিয়ে। এরপর অতিথি বরণ এবং স্বাগত সংগীতের মধ্য দিয়ে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়।
ছাত্রভর্তি পরিচালন কমিটির সমন্বয়ক ড. জয়দীপ গোস্বামী স্বাগত ভাষণে নবাগত ছাত্রছাত্রীদের শুভেচ্ছা জানান৷ তিনি শিক্ষা জীবনের গুরুত্ব, দায়িত্ব, শৃঙ্খলা ও আত্মনির্ভরতার ওপর আলোকপাত করেন। কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহাবুদ্দিন আহমেদ নতুন প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে সমাজে একটি গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
কলেজের শিক্ষা সমন্বয়ক ড. বাহারুল আলম লস্কর ছাত্রছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এবং সেমিস্টার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। ড. মোফিদুর রহমান সমন্বয়ক, অভ্যন্তরীণ গুণগত মান উৎকর্ষ কোষ কলেজের ইতিহাস, গঠন এবং বিভিন্ন শাখার বিকাশ নিয়ে একটি তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতি ২০২০ ও আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন পাঠ্যক্রম কাঠামো নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা ড. সুরশিখা দেবনাথ ও শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রূপাশ্রী পাল অ্যাকাডেমিক ব্যাংক অব ক্রেডিট নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন। এছাড়াও গ্রন্থাগারিক ড. রাজেশ চুতিয়া কলেজের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং আন্তঃবিভাগীয় শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সঞ্চুমা গয়ারি মূল্য সংযোজনকারী কোর্স নিয়ে আলোকপাত করেন।
এরপর প্রতিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানরা তাঁদের নিজ নিজ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ও কার্যকরী উপস্থাপনা করেন। পাশাপাশি কলেজের বিভিন্ন সেল ও কমিটির সমন্বয়কারীরা ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ সেলগুলোর কার্যাবলী তুলে ধরেন। ড. মৌসোনা নাথ সমানাধিকার কোষ সম্পর্কে আলোকপাত করেন। ড. মধুমিতা ঘোষ, সমন্বয়ক কর্মজীবন পরামর্শ কোষ ছাত্রদের দক্ষতা অনুযায়ী জীবন গঠনে গুরুত্ব প্রদান করেন।
এনসিসি সেল-এর রোজমেরি লালজারকিম মার ছাত্রীদের এনসিসি-এর কার্যক্রমের মধ্যে দেশ গঠনের আহ্বান জানান। দীক্ষা দে সমন্বয়ক ছাত্র উন্নয়ন কোষ ছাত্রদের কলেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অবগত করান। অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি-এর ড. আয়েশা আফসানা ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন ও উৎপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বলেন। খেলাধূলার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন ডা. জয়দীপ গোস্বামী। নিয়মানুবর্তিতা নিয়ে নিয়মানুবর্তিতা কোষ-এর সমন্বয়ক ড. বাহারুল আলম লস্কর ছাত্রদের অবগত করান।
জাতীয় সেবা প্রকল্পের সমন্বয়ক ড. শালিম এম হোসেন ছাত্রদের দেশ গঠন এবং সমাজসেবায় এগিয়ে আসতে বলেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ছাত্রছাত্রীদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরে সকলকে মুগ্ধ করে। এতে কলেজ জীবনের প্রাণবন্ততা ও সৃজনশীলতার প্রতিফলন ঘটে। ছাত্রদের মধ্যে ছিল প্রিয়াংশু দেব, মৌমিতা দেব, শ্যামল দেব, ধীরাজ চক্রবর্তী, পিয়ালী গোস্বামী, সিম্পলি নাথ ও সঞ্জিত নাথ। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন ড. চন্দা মেধি। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সব শিক্ষক, অতিথি, কর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের ধন্যবাদ জানান।
এদিনের ‘দীক্ষারম্ভ’ অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ছিলেন ড. জয়দীপ গোস্বামী এবং সহ-সমন্বয়ক ড. রূপশ্রী পাল। তাঁদের সুদক্ষ পরিকল্পনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়।
‘দীক্ষারম্ভ’ অনুষ্ঠানটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক নতুন যাত্রার সূচনা, যেখানে তারা জ্ঞানের পথে, মূল্যবোধে ভর করে এগিয়ে যাবে—এমনটাই আশা ব্যক্ত করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এক বিবৃতিতে এ খবর জানিয়েছেন কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা রূপশ্রী পাল।
