ওয়েবডেস্ক। ৩ নভেম্বর
প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের রয়েছে। কিন্তু সেই অধিকারের নামে অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনও নির্দিষ্ট জায়গা দখল করে রাখা যায় না। দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার শুনানিতে ফের এই অবস্থান স্পষ্ট করল সুপ্রিম কোর্ট।
মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকার-সহ অন্য পক্ষগুলিকে নোটিশ পাঠিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। একই সঙ্গে প্রতিবাদের অধিকার, জনসাধারণের চলাচল এবং ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি জে ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।
দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের পাশাপাশি যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামলাকারীরা। অন্যদিকে, উৎসবের মরশুমে রাজধানীতে বিক্ষোভ ও মিছিলের কারণে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে আন্দোলনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আর্জি জানিয়েছে দিল্লির কিরানা কমিটি।
শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর বক্তব্য, কোনও আন্দোলনের ডাক দিলে সেই কর্মসূচির পরিণতির দায়ও আয়োজকদের নিতে হবে। শুধু প্রতিবাদের অধিকার থাকলেই যেখানে খুশি, যত দিন ইচ্ছা অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় না।
তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, কোনও একটি জায়গা দিনের পর দিন দখল করে বসে থাকা সম্ভব নয়। কারণ, প্রতিবাদ করার অধিকার শুধু একটি সংগঠন বা গোষ্ঠীর নয়। অন্যদেরও নিজেদের দাবি জানানোর অধিকার রয়েছে। কৃষক, আইনজীবী-সহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ প্রতিবাদ করতে চাইলে তাঁদের জন্যও জায়গা রাখতে হবে। ফলে কোনও একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন নির্দিষ্ট স্থান আটকে রাখলে অন্যদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
কেন্দ্রের তরফে আদালতকে জানানো হয়েছে, যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের স্বীকৃতি প্রত্যাহারের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিক্ষোভ ও আন্দোলনের জন্য বিকল্প তিনটি নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করেছিল। সেই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল প্রতিবাদের সুযোগ বজায় রেখেই আইনশৃঙ্খলা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখা।
২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভের প্রসঙ্গও শুনানিতে উঠে আসে। তুষার মেহতা জানান, ওই দিনের কর্মসূচির জন্য আয়োজকদের মাত্র এক দিনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা অনুমোদিত সীমানা অতিক্রম করে নির্ধারিত এলাকার বাইরে অবস্থান চালিয়ে যান। পরে সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করে এগিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ প্রসঙ্গে সলিসিটর জেনারেল বলেন, সংসদ ভবন কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নয়। তাই ইচ্ছা হলেই সেখানে বা সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় না।

error: Content is protected !!