ওয়েবডেস্ক। ৫ অগস্ট

প্রবল বর্ষণের জেরে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথের নিউ হারাঙ্গাজাও এলাকার ১১৮/১–৩ কিলোমিটার অংশে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ বুধবারও ব্যাহত হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বারবার নতুন করে মাটি ধসে পড়ছে এবং পাহাড় থেকে পাথর গড়িয়ে আসায় প্রকৌশলীদের পক্ষে নির্বিঘ্নে মেরামত কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় পুনরায় মাটি বসে যেতে দেখা গেছে।রেল সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত লাইন ১ এবং ২ অংশে ট্র্যাকের নিচের মাটি ফের বসে যাওয়ায় রেললাইন অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রকৌশল বিভাগ, ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ শাখা এবং নির্মাণ বিভাগের কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করলেও টানা বৃষ্টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পাথর ফেলা, মাটি ভরাট, ঢাল স্থিতিশীল করা এবং ট্র্যাক পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে। তবে প্রতিবার বৃষ্টির পর নতুন করে মাটি বসে যাওয়ায় পূর্বে সম্পন্ন হওয়া কাজের একটি অংশ আবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে মেরামত কার্যক্রম প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে।এদিকে, ব্রডগেজ রেল সংযোগ পরিষেবা বন্ধ থাকায় যাত্রী এবং পণ্য পরিবহণ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, নির্মাণ সামগ্রী, জ্বালানি এবং অন্যান্য মালবাহী রেক চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।এদিকে, পাহাড়ি রেলপথে প্রায় প্রতি বর্ষাতেই ভূমিধস, ট্র্যাক বসে যাওয়া এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পুনরাবৃত্ত ঘটনায় বিকল্প রেলপথ নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী মহল এবং রেল কর্মচারী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে লংকা–শিলচর ভায়া চন্দ্রনাথপুর নতুন ব্রডগেজ রেললাইন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। তাঁদের মতে, বিকল্প রেলপথ নির্মিত হলে ভবিষ্যতে এ-ধরনের দুর্যোগের সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে।

error: Content is protected !!