ওয়েবডেস্ক। ১৬ জুন
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর যখন পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত কমার আশায় তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল, তখনই ভিন্ন সুর শোনা গেল ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর গলায়। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, চুক্তি হোক বা না হোক, ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।
সোমবার সন্ধ্যায় এক সংক্ষিপ্ত সাংবাদিক বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরান আজ নয়, কালও নয়, কোনও দিনই পরমাণু অস্ত্র পাবে না। বর্তমান বা ভবিষ্যত, ইরানকে কখনও পরমাণু অস্ত্র পেতে দেব না
চুক্তি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকারের পদক্ষেপ ইজরায়েলকে এক আসন্ন অস্তিত্বসংকট থেকে রক্ষা করেছে। তাঁর কথায়, ‘অনেকে জানতে চাইছেন আমরা কী অর্জন করেছি। আমার উত্তর, আমরা নিজেদের উপর ঝুলে থাকা ধ্বংসের তাৎক্ষণিক হুমকি দূর করেছি। সবচেয়ে বড় কথা, ইজরায়েল রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের বিপদ থেকে বাঁচিয়েছি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এমন সময় আসে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমি একই মত পোষণ করি না। কিন্তু ইজরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থকে বিচক্ষণতার সঙ্গে রক্ষা করতেই হবে।’ দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন তিনি। তাঁর দাবি, গাজা, লেবানন এবং সিরিয়ায় ইজরায়েল নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে এবং দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে যতদিন প্রয়োজন, ততদিন সেই অবস্থান বজায় থাকবে।
স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, শান্তিচুক্তি হলেও ইজরায়েলের নিরাপত্তা অভিযান থামছে না। লেবানন, সিরিয়া ও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনও পরিকল্পনাও নেই। নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাঁর মতে, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক প্রস্তুতি ও মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিচুক্তির ঘোষণা করে জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরে আসবে এবং দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের পথ খুলবে। তাঁর বক্তব্যে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিললেও সেই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন নেতানিয়াহু।
শান্তিচুক্তির খসড়া অনুযায়ী, বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও ইজরায়েল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নিজেদের নিরাপত্তা নীতিতে কোনও পরিবর্তন আনা হবে না। নেতানিয়াহুর দাবি, সীমান্ত ও কৌশলগত অঞ্চলগুলিতে সেনা উপস্থিতি বজায় রাখা বর্তমান পরিস্থিতিতে অপরিহার্য।

error: Content is protected !!