ওয়েবডেস্ক। ১৬ জুন
ওষুধের গুণমান এবং রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। এবার থেকে কাশির সিরাপ-সহ সব ধরনের সিরাপজাত ওষুধ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা যাবে না। এই মর্মে ওষুধ সংক্রান্ত নিয়মে সংশোধন আনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক জানিয়েছে, সিরাপজাত ওষুধগুলিকে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার আওতায় আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত নিয়ম সরকারি গেজেটে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ওষুধবিধির ‘তফসিল-কে’-এর ‘ওষুধের শ্রেণি’ অংশের সপ্তম নম্বর থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, তফসিল-কে-তে এমন কিছু ওষুধের শ্রেণি নির্ধারিত রয়েছে, যেগুলি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ সংক্রান্ত কয়েকটি বিধান থেকে ছাড় পায়। নতুন সংশোধনের ফলে সিরাপজাত ওষুধ আর সেই ছাড়ের আওতায় থাকবে না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সরকার এ বিষয়ে একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত ও আপত্তি চেয়েছিল। প্রাপ্ত পরামর্শগুলি বিবেচনা করার পর দেশের সর্বোচ্চ ওষুধ-সংক্রান্ত কারিগরি পরামর্শদাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন দেশে দূষিত কাশির সিরাপের সঙ্গে শিশু মৃত্যুর ঘটনার অভিযোগ সামনে আসে। এরপর থেকেই কাশির সিরাপ এবং অন্যান্য তরল ওষুধের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই এই নতুন সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সিরাপজাত ওষুধের উৎপাদন ও বিক্রির ক্ষেত্রে আরও বেশি জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি উৎপাদক এবং বিক্রেতাদের কঠোর লাইসেন্স ও মান নিয়ন্ত্রণের বিধি মেনে চলতে হবে, ফলে ওষুধের নিরাপত্তা ও গুণমান বজায় রাখা সহজ হবে।
