ওয়েবডেস্ক। ১৩ জুন
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ভারত শুধু নিজের স্বার্থের কথা বলবে না, বরং উন্নয়নশীল ও উদীয়মান দেশগুলির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্বও করবে। শনিবার ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফরে রওনা হওয়ার আগে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর কথায়, জি-৭ বৈঠকে গ্লোবাল সাউথ-এর কণ্ঠস্বর হবে ভারত।
এক সপ্তাহব্যাপী এই সফরে তিনি জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফর শুরুর আগে প্রকাশিত বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জি-৭ বৈঠকে ভারতের ধারাবাহিক আমন্ত্রণ পাওয়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং অংশীদার দেশগুলির আস্থারই প্রতিফলন।
মোদি বলেন, এবার নিয়ে টানা অষ্টমবার জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই মঞ্চে ভারত শুধু নিজের বক্তব্যই তুলে ধরবে না, বরং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির আশা-আকাঙ্ক্ষারও কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য, আগামী ১৬ ও ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত হবে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্স ভারতের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। অন্যদিকে, ১৯৯৩ সালে স্লোভাকিয়ার স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সে দেশে সরকারি সফরে যাচ্ছেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
১৪ জুন নিস শহরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে যৌথভাবে ‘ভারত ইনোভেটস’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন মোদি। ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচিতে ভারতের সম্ভাবনাময় নবীন উদ্যোগগুলিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই উদ্যোগ ভারতের উচ্চশিক্ষা ও উদ্ভাবনভিত্তিক পরিবেশ থেকে উঠে আসা নতুন প্রযুক্তি ও চিন্তাভাবনাকে আরও গতি দেবে।
ফ্রান্স সফরের পর ১৪ ও ১৫ জুন স্লোভাকিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন মোদি। রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় তিনি প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি এবং প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিৎসোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্য জগতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। মোদি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক সফর আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শক্ত ভিতকে আরও মজবুত করবে। প্রেসিডেন্ট পেলেগ্রিনি এবং প্রধানমন্ত্রী ফিৎসোর সঙ্গে আলোচনা নিয়ে আমি আশাবাদী।’
তিনি আরও জানান, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় এই সফর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। স্লোভাকিয়া এই জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
স্লোভাকিয়া সফর শেষে মোদি ফের ফ্রান্সে ফিরে এভিয়ানে জি-৭ বৈঠকে যোগ দেবেন। পরে ১৮ জুন প্যারিসে আয়োজিত ‘ভিভাটেক ২০২৬’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাঁর সফর শেষ হবে।
উল্লেখ্য, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম এই সম্মেলনে এবার সবচেয়ে বড় জাতীয় প্রদর্শনী প্যাভিলিয়ন থাকবে ভারতের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ভারত ও ইউরোপের উদ্ভাবনী পরিবেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার প্রতীক। সফরের শেষ পর্যায়ে প্যারিসে ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন মোদি। তাঁর কথায়, ‘ভারতীয় সম্প্রদায় দুই দেশের মধ্যে এক জীবন্ত সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করে চলেছে। তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

error: Content is protected !!