ওয়েবডেস্ক। ১০ জুন
সামরিক ব্যয়ে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ হিসেবে উঠে এসেছে ভারত। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতের সামরিক ব্যয় ছিল প্রায় ৯২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয়ের নিরিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও শীর্ষে রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির সামরিক ব্যয় ছিল ৯৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের প্রায় ৩৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন, তাদের ব্যয় ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় স্থানে রাশিয়া এবং চতুর্থ স্থানে জার্মানি।
২০২৫ সালে ভারতের সামরিক ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ৮.৯ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বের ১৫টি বৃহত্তম সামরিক ব্যয়কারী দেশ মিলিয়ে মোট বৈশ্বিক সামরিক ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যয় করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা একাদশ বছরের মতো ২০২৫ সালেও বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বেড়েছে। মোট ব্যয় পৌঁছেছে ২.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় ২.৫ শতাংশ। গবেষণা সংস্থার ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয়ের রেকর্ড।
অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রেও ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রেতা। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক পাঁচ দেশের তালিকায় রয়েছে ইউক্রেন, ভারত, সৌদি আরব, কাতার এবং পাকিস্তান। এই পাঁচ দেশ মিলেই ওই সময়ের মোট অস্ত্র আমদানির ৩৫ শতাংশের অংশীদার।
প্রতিবেদনে একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, গত দুই বছরে ভারতের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা বেড়ে ১৯০-এ পৌঁছেছে। এর আগে এই সংখ্যা ছিল ১৮০। তুলনায় পাকিস্তানের সম্ভাব্য মজুত প্রায় ১৭০টি। তবে বিশ্বের পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে অস্ত্রের সংখ্যার বিচারে এখনও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে রাশিয়া। দেশটির হাতে রয়েছে ৫,৪২০টি পরমাণু অস্ত্র। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাণ্ডারে রয়েছে ৫,০৪২টি অস্ত্র। এ ছাড়া চিনের হাতে ৬২০টি, ফ্রান্সের ৩৭০টি, ব্রিটেনের ২২৫টি এবং পাকিস্তানের ১৭০টি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। ইজরায়েলের অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে ৯০টি এবং উত্তর কোরিয়ার হাতে রয়েছে প্রায় ৬০টি পরমাণু অস্ত্র।
ভারত বর্তমানে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বহুমুখী স্বাধীন লক্ষ্যভেদী ওয়ারহেড প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে পৃথকভাবে আঘাত হানা সম্ভব।
অন্যদিকে পাকিস্তানও নতুন অস্ত্রবাহী ব্যবস্থা তৈরির পাশাপাশি পরমাণু উপাদান মজুত বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে আগামী এক দশকে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আধুনিক যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে সাইবার অভিযান। ২০২৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাতের সময় প্রথমবারের মতো দুই দেশ প্রকাশ্যে সাইবার কার্যক্রমকে সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে গবেষণা সংস্থাটি। তাদের মতে, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গত বছরের সামরিক সংকটসহ বিশ্বের একাধিক আঞ্চলিক উত্তেজনা এখনও বড় আকারের যুদ্ধের ঝুঁকি বহন করছে।
