ওয়েবডেস্ক। ৯ জুন
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলা ও অর্থনৈতিক অবরোধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল ভারত। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বতানেনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে তাকে ‘সামরিক অভিযান’ বলে দায় এড়ানো যায় না। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের ওপর পাকিস্তানের এই আগ্রাসন গোটা অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ হুমকি।
রাষ্ট্রপুঞ্জের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের (ইউনামা) রিপোর্টের তথ্য তুলে ধরে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জানান, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৩৭২ জন নিরীহ আফগান নাগরিক নিহত এবং ৩৯৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় এই যে এর মধ্যে একটি বড় অংশের ওপর হামলা চালানো হয়েছে পবিত্র রমজান মাসে, যা মূলত শান্তি, দয়া ও আত্মশুদ্ধির সময়। এই অমানবিক হিংসার কোনও ধর্মীয় বা নৈতিক ব্যাখ্যা হতে পারে না।
পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই ভারত কড়া ভাষায় মনে করিয়ে দেয় যে, নিরীহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করা, পঙ্গু করা বা শিশুদের অনাথ করা কোনওভাবেই সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াই হতে পারে না। ভারত একে ‘চরম ভণ্ডামি’ বলে অভিহিত করেছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার দায় প্রতিবেশীদের ওপর চাপানো তাদের পুরোনো অভ্যাস বলে মন্তব্য করেছে নয়াদিল্লি।
ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অপপ্রচারেরও কড়া জবাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। বালুচিস্তানের বিদ্রোহীদের ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করার নির্দেশিকাকে ভারত ধর্মীয় উসকানি ও ঘৃণা ছড়ানোর কৌশল বলে নিন্দা করেছে। পাকিস্তানের সামরিক ও প্রশাসনিক শক্তি নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জনগণকে ভারতের বিরুদ্ধে স্থায়ী শত্রুতার আবহে বন্দি করছে বলে অভিযোগ করেছে ভারত।
আফগান ব্যবসায়ীদের ওপর পাকিস্তানের ‘বাণিজ্য ও ট্রানজিট সন্ত্রাস’-এর বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে নয়াদিল্লি। পাকিস্তান বাণিজ্যের পথ আটকে রাখলেও ভারত আফগান পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে এবং বিশেষ মালবাহী করিডর সচল রেখেছে। বিপাকে পড়া ব্যবসায়ীদের বিনামূল্যে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক ভিসা প্রদান করছে ভারত।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ভারত কটাক্ষ করে জানিয়েছে, বহুত্ববাদ ও রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতি সমর্থন জানানো কোনও রেস্তোরাঁর খাবারের তালিকা বা ‘আ লা কার্তে মেনু’ নয় যে ইচ্ছেমতো বেছে নেওয়া যাবে। ভারত দৃঢ়ভাবে বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টাই লস্কর-ই-তৈয়বা, জয়েশ-ই-মহম্মদ ও আল-কায়দার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে নির্মূল করতে পারে।
