ওয়েবডেস্ক। ৯ জুন
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও সারের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতীয় অর্থনীতি কিছুটা বাহ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। তবে এই প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির গতি অব্যাহত রয়েছে বলে মঙ্গলবার সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে শুল্ক এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার বিষয়টি আগেই মাথায় রাখা হয়েছিল। ফলে বিশ্বজুড়ে অশান্ত পরিস্থিতির কারণে সরকারকে এখনই কোনও অতিরিক্ত ঋণ নিতে হবে না। সেইসঙ্গে সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে অনুদানের জন্য কোনও অতিরিক্ত সম্পূরক দাবি পেশ করারও আপাতত প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে সরকারি সূত্র।
আর্থিক ঘাটতির বিষয়ে সরকারি সূত্র জানিয়েছে যে, চলতি অর্থবছরে জিডিপির ৪.৩ শতাংশ আর্থিক ঘাটতির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। এই ঘাটতি সামাল দিতে সরকার কর বহির্ভূত রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রগুলির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছে। এর মধ্যে বিলগ্নীকরণ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ নগদীকরণের মতো বিষয়গুলি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, বিনিয়োগ ও সরকারি সম্পত্তি পরিচালনা বিভাগ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত উদ্যোগ বিভাগের কাছে এই সংক্রান্ত একটি বছরব্যাপী সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই খাত থেকে বাজেট অনুমোদিত ৮০,০০০ কোটি টাকা আদায়ের যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল, তা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবং আইডিবিআই ব্যাংকের বিলগ্নীকরণের প্রক্রিয়াও আগামী দিনে সম্পন্ন হবে।
জুলাই মাসে সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করবে। এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকের পরিসংখ্যান এবং বর্ষায় এল নিনোর প্রভাব স্পষ্ট হলে এই পর্যালোচনা হবে। সূত্র জানাচ্ছে, অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে, রেমিট্যান্সে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি, জিএসটি সংগ্রহ আশাব্যঞ্জক এবং বেসরকারি বিনিয়োগও গতি ফিরে পেয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে। তবে মূলধন বহির্গমনে কোনও নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা নেই। যদিও সারের দাম বাড়ায় ভর্তুকি দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে সার মন্ত্রক। অন্যদিকে, জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে ১.২৩ লক্ষ কোটি টাকার সহায়তা দিয়েছে। তবুও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে বিক্রি করায় সংস্থাগুলি প্রতিদিন প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছে।

error: Content is protected !!