ওয়েবডেস্ক। ৯ জুন
রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। বিরোধী দল কংগ্রেসের অভিযোগ, শাসকদল বিজেপি তাদের বিধায়কদের প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের শিবিরে টানার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের বিধায়কদের সুরক্ষিত রাখতে এবং ক্রস-ভোটিং রুখতে নিজেদের বিধায়কদের বিমানে করে বেঙ্গালুরু পাঠাল হাত শিবির।
আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠেয় রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রদেশের ৬২ জন যোগ্য কংগ্রেস বিধায়কের মধ্যে ৩৫ জনকে ইতিমধ্যেই চার্টার্ড ফ্লাইটে করে বেঙ্গালুরুতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা উমং সিংঘার নিজে এই বিধায়ক দলের সঙ্গে বেঙ্গালুরু গিয়েছেন। মূলত কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকে নিজেদের বিধায়কদের একসঙ্গে ও সুরক্ষিত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
প্রসঙ্গত, ২৩০ আসন বিশিষ্ট মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় বর্তমানে কার্যকর আসন সংখ্যা ২২৯। এই সমীকরণে রাজ্যসভার একজন প্রার্থীকে জয়ী হতে গেলে ন্যূনতম ৫৮টি প্রথম পছন্দের ভোটের প্রয়োজন। বিধানসভায় ১৬৪ জন বিধায়ক থাকা ক্ষমতাসীন বিজেপি দু’টি আসনে অনায়াসেই জয়লাভ করতে পারছে। তবে মৎস্যজীবী কল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান মহেশ কেওয়াতকে তৃতীয় প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে বিজেপি নির্বাচনে নাটকীয় মোড় এনে দিয়েছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস তাদের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে প্রাক্তন সাংসদ মীনাক্ষী নটরাজনকে। বিজেপির এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা দিগ্বিজয় সিং দাবি করেছেন যে, বিজেপি একজন যোগ্য মহিলা প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য সমস্ত রকম চক্রান্ত করছে।
ভোটগণিতের সমীকরণ মতে, দু’টি আসন জেতার পর বিজেপির কাছে আরও ৪৮টি ভোট উদ্বৃত্ত থাকবে, ফলে আর মাত্র ১০টি ভোট পেলেই তাদের তৃতীয় প্রার্থী জিতে যাবেন। অন্যদিকে, রাজেন্দ্র ভারতীর সদস্যপদ খারিজ ও মুকেশ মালহোত্রার ভোটদানে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পর কংগ্রেসের কার্যকরী ভোট এখন মাত্র ৬২। এর ওপর বিনা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নির্মলা সাপ্রেও বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২০ সালে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার দলবদলে যেভাবে কমল নাথ সরকার পড়ে গিয়েছিল, সেই বিপর্যয় এড়াতে এবার নির্বাচন শুরুর আগেই চরম সতর্ক কংগ্রেস শিবির।

error: Content is protected !!