ওয়েবডেস্ক। ৪ জুন
ভারত মহাসাগর অঞ্চলে কৌশলগত প্রভাব বাড়ানো এবং চিনের সামুদ্রিক গতিবিধির উপর আরও নজরদারির লক্ষ্য নিয়ে গ্রেট নিকোবর দ্বীপে প্রায় ৯০০ কোটি ডলার ব্যয়ের এক উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি সফল হলে মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশদ্বারের কাছে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং তা ভবিষ্যতে চিনের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
প্রায় ১৬৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে উঠতে চলা এই প্রকল্পে একটি আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর, অসামরিক ও সামরিক ব্যবহারের বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পর্যটন পরিঠামো এবং সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের জন্য আধুনিক নগরী তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী তিন দশকে ধাপে ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য ২০২৮ সাল।
বর্তমানে ভারতের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজকে গভীর সমুদ্রবন্দর না থাকায় কলম্বো ও সিঙ্গাপুরের মতো বিদেশি বন্দরের উপর নির্ভর করতে হয়। নতুন বন্দর চালু হলে সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ কন্টেনার পরিবহণের সক্ষমতা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর ভৌগোলিক অবস্থান। গ্রেট নিকোবর মালাক্কা প্রণালীর খুব কাছাকাছি অবস্থিত। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহণ হয়।
চিনের আমদানিকৃত তেলের একটি বড় অংশ এবং বিপুল বাণিজ্যিক পণ্য এই পথেই পরিবাহিত হয়। ফলে মালাক্কা প্রণালীর উপর বেজিঙের নির্ভরতা দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত উদ্বেগের কারণ। বিকল্প হিসেবে লম্বক ও সুন্ডা প্রণালীর ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা হলেও তাতে হাজার হাজার কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রেট নিকোবর এমন একটি অবস্থানে রয়েছে যেখান থেকে মালাক্কা প্রণালী দিয়ে যাওয়া প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌচলাচলের উপর নজর রাখা সম্ভব। এর ফলে ভারতের সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা এবং নজরদারি ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
তবে প্রকল্পটি ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। পরিবেশবিদ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের আশঙ্কা, উন্নয়ন প্রকল্পের ফলে গ্রেট নিকোবরের সংবেদনশীল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হতে পারে। দ্বীপটিতে শম্পেন জনজাতিসহ কয়েকটি আদিবাসী গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, যাদের জীবনযাত্রা বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল।

error: Content is protected !!