ওয়েবডেস্ক। ৪ জুন
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রাজ্যের একমাত্র শূন্য রাজ্যসভা আসনটি জোটসঙ্গী কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে কংগ্রেস-বিজয় জোটের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতায় থাকার জন্য বিজয়ের কংগ্রেসের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিধানসভায় কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ক সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্যসভার আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা এবং তামিলনাড়ু-দায়িত্বপ্রাপ্ত গিরিশ চোদনকর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপরই আসনটি নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, কংগ্রেসের কৌশলবিদ প্রবীণ চক্রবর্তী এই আসনের জন্য দলের প্রার্থী হতে পারেন। তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেওয়া কংগ্রেস-বিজয় জোট গঠনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়।
অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগম নেতা সি ভি শণ্মুগম বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর পদত্যাগের ফলেই রাজ্যসভায় এই শূন্যপদের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ডিএমকে। দলের মুখপাত্র এ সারাভানন অভিযোগ করেন, সংসদে ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক লড়াই এড়াতে চায় বিজয়ের দল। তাই সেই দায়িত্ব কংগ্রেসের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজয়ের দল। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, এটি কোনও দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয় নয়, বরং জোটকে আরও শক্তিশালী করার কৌশল। তাঁর কথায়, একজন মাত্র সাংসদ নিয়ে আমরা কী-ই বা করতে পারি? আমাদের লক্ষ্য জোটকে আরও মজবুত করা। কংগ্রেস নেতারা বিজয়ের এই সিদ্ধান্তকে উদার ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন। কংগ্রেস সাংসদ জ্যোতিমণি বলেন, অতিরিক্ত এই আসন রাজ্যসভায় দলের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করবে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে অবস্থান নিতে সাহায্য করবে।
