ওয়েবডেস্ক। ২ জুন
দেশের সার্বভৌমত্ব ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যে যদি কখনও সংঘাত দেখা দেয়, তাহলে সার্বভৌমত্বই অগ্রাধিকার পাবে, বিশেষত মাদক ও মনঃপ্রভাবিতকারী পদার্থ সংক্রান্ত মামলায়। মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানিতে এমনই মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের। জেলের ভিতর থেকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মাদক পাচার চক্র চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে জামিন দিয়েছিল পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। হাইকোর্টের সেই নির্দেশ এদিন খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও এন কোটিশ্বর সিঙের বেঞ্চ এই রায় দেওয়ার সময় অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলে, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে নিঃসন্দেহে সার্বভৌমত্বই প্রাধান্য পাবে, বিশেষত যখন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো হয় মাদকের সরবরাহের মাধ্যমে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।’ এ ক্ষেত্রে আপসের কোনও সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, কারণ এ সংক্রান্ত ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করে।
আদালত জানায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগে একই ধরনের অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং তাই জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পুনরায় অপরাধে যুক্ত হবেন না, এমনটা বলা যায় না। অভিযুক্ত এখন পর্যন্ত মাত্র এক বছর সাত মাস কারাবাস করেছেন, অথচ অপরাধের গুরুত্ব বিচার করলে এবং দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের সাজা হতে পারে।
আদালত স্বীকার করেছে যে, অতীতে বহু ক্ষেত্রে দীর্ঘ কারাবাসের কারণে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জামিন দেওয়া হয়েছে, তবে এই নিয়ম সব ক্ষেত্রে একভাবে প্রযোজ্য হতে পারে না। জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে ঠিক কতদিনের কারাবাসকে ‘দীর্ঘ কারাবাস’ বলা হবে, তা সুপ্রিম কোর্ট বা দেশের আইনে নির্দিষ্ট করে কোথাও ব্যাখ্যা করা হয়নি বলেও এদিন স্পষ্ট করে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।

error: Content is protected !!