ওয়েবডেস্ক। ১ জুন
চলতি মাসের ১৮ তারিখ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রাজ্যসভার ২৫টি আসনে নির্বাচন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ায় এবারের ভোটকে কেন্দ্র করে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দলবদল বা ক্রস ভোটিঙের সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যার জটিল অঙ্ক রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে।
সূত্রের খবর, নির্বাচনকে সামনে রেখে রবিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে রাজ্যসভা ভোটের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শাসক এনডিএ জোটের আশা, এই নির্বাচনের পর রাজ্যসভায় তাদের সদস্যসংখ্যা ১৫০-এর গণ্ডি পেরিয়ে যাবে। বর্তমানে উচ্চকক্ষে জোটের সদস্যসংখ্যা ১৪৮। ২৫টি আসনের মধ্যে ১৭ থেকে ১৮টি আসনে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে তারা।
এই নির্বাচনের সঙ্গে শেষ হচ্ছে একাধিক বর্ষীয়ান নেতার বর্তমান মেয়াদ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া, মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জর্জ কুরিয়ান ও রবনীত সিং বিট্টু।
এবারের নির্বাচনে মধ্যপ্রদেশ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেখানে তিনটি আসনে ভোট হবে। কংগ্রেসের সংখ্যা এমন অবস্থায় রয়েছে যে একটি আসন জিততে পারলেও অতিরিক্ত মাত্র ছয়টি ভোট থাকায় ক্রস ভোটিঙের ঝুঁকি রয়ে গেছে। দিগ্বিজয় সিং ফের রাজ্যসভায় যেতে অনীহা প্রকাশ করায় কংগ্রেসকে নতুন মুখ খুঁজতে হবে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশে বিজেপি দু’টি আসন জিততে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জর্জ কুরিয়ান। কর্ণাটকে কংগ্রেসের সংখ্যাগত শক্তির ভিত্তিতে তিনটি আসন জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পুনর্নির্বাচন প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজস্থানে দু’টি আসন ভারতীয় জনতা পার্টি এবং একটি আসন কংগ্রেসের ঝুলিতে যেতে পারে বলে অনুমান। কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট ও দলের মুখপাত্র পবন খেরা। তবে কংগ্রেসের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছে গুজরাটে। শক্তিসিং গোহিলের মেয়াদ ২১ জুন শেষ হওয়ার পর রাজ্যে কংগ্রেসের কোনও রাজ্যসভা সদস্য নাও থাকতে পারে। কারণ একটি আসন জিততে যেখানে ৪৬ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন, সেখানে কংগ্রেসের হাতে রয়েছে মাত্র ১২ জন বিধায়কের সমর্থন। ফলে বহু বছরের মধ্যে এই প্রথম গুজরাট থেকে কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধি রাজ্যসভায় নাও থাকতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।
ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেসের আশা নির্ভর করছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার উপর। সেখানে দু’টি আসনে ভোট হবে, যার মধ্যে একটি আসন শিবু সোরেনের মৃত্যুর পর শূন্য হয়েছে। কংগ্রেস চাইছে, জোটসঙ্গী দল তাদের একটি আসন ছেড়ে দিক।
উল্লেখ্য, সোমবার নির্বাচন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৮ জুন। এবার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ জন সদস্যের, যাঁদের মধ্যে ১১ জন ভারতীয় জনতা পার্টির এবং তিন জন জোটসঙ্গী দলের প্রতিনিধি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় জানা গেছে, আগামী ১৮ জুন অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, রাজস্থান, অরুণাচল প্রদেশ, কর্ণাটক এবং মিজোরামের মোট ২৬টি আসনে নির্বাচন হবে। এর পাশাপাশি মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুর দু’টি আসনে উপনির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।

error: Content is protected !!