যুগশঙ্খ ওয়েবডেস্ক
সোনাই৷ ১১ আগস্ট

বড়মামদা হয়ে সোনাই-বিন্নাকান্দি (লক্ষীপুর) সড়কের আনুয়া সংলগ্ন কাপ্তানপুর ১৮ খণ্ডের গ্রামীণ সড়কের প্রায় দেড়শো মিটার জায়গাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন ও যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ব্যস্ত এই সড়ক দিয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের পর গত মার্চ-এপ্রিল মাসে সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ভাঙনপ্রবণ স্থানে পৃথকভাবে সিসি ব্লক বসিয়ে সংস্কার করেছিলেন বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার মাত্র মাসখানেকের মধ্যেই ফের ধস নামে। পরে বিভাগ ও ঠিকাদারের পক্ষ থেকে মেরামতের চেষ্টা করা হলেও তা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বর্তমানে ওই জায়গাটি আবারও বিপদজনক হয়ে উঠেছে।
রবিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করছে। যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সড়কের এই অংশ পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। প্রবীণদের দাবি, চার দশক ধরে এই ভাঙন দুর্ভোগ বয়ে বেড়াচ্ছেন এলাকার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা আমু চৌধুরী জানান, ভাঙনস্থলের গভীরের মাটি অস্বাভাবিকভাবে নরম হওয়ায় বারবার ধস নামে ও রাস্তা বসে যায়। তিনি বৈজ্ঞানিকভাবে কারণ অনুসন্ধান করে স্থায়ী সংস্কারের আহ্বান জানান।
আমুর অভিযোগ, যখনই রাস্তা ধসে যায় বা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তখন কয়েক গাড়ি বালু-পাথর বা পুরোনো রাস্তার বিটুমিনযুক্ত পাথর ফেলে সাময়িক সমাধানের চেষ্টা করা হয়। পর্যায়ক্রমে এই জনদুর্ভোগকে বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতা হিসাবেই দেখছেন সচেতন মহল। পরিকল্পনার অভাব ও স্থায়ী সমাধানের ব্যর্থতাকেও দায়ী করেছেন অনেকে। ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে মন্ত্রী কৌশিক রায় ও সোনাইর বিধায়ক করিম উদ্দিন বড়ভূঁইয়ার দ্রুত উদ্যোগ ও পদক্ষেপ কামনা করেছেন। বর্তমানে এই এলাকাটি ডিলিমিটেশনের আওতায় সোনাই বিধানসভায় অন্তর্ভুক্ত হলেও আগে লক্ষীপুর বিধানসভার অংশ ছিল।
উল্লেখ্য, কাপ্তানপুরের এই ভাঙনস্থলটি আনুয়ার ধারে অবস্থিত। একসময় এখান দিয়ে বরাক নদী প্রবাহিত হলেও ১৯৯২ সালে বরাকের গতিপথ পরিবর্তিত হয় এবং আনুয়ার সৃষ্টি হয়। প্রবীণদের মতে, বরাক নদী প্রবাহমান থাকাকালেও এ স্থানটি ভাঙনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল৷

error: Content is protected !!