যুগশঙ্খ প্রতিবেদন
শিলচর। ৬ আগস্ট
শিলচর শহর এলাকার শিশুমন্দির স্কুল রোড দীর্ঘ বছর ধরে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। সরকারি খাতায় সড়কটি পূর্ত বিভাগের অধীনে থাকলেও বিভাগীয় আধিকারিকদের নজর এড়িয়ে চলছে। যার ফলে বছরের পর বছর ধরে শিশুমন্দির স্কুল এবং পার্শ্ববর্তী প্রণবানন্দ বিদ্যামন্দিরের ছাত্র-ছাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই জরাজীর্ণ সড়কটি অতিক্রম করে স্কুলে পৌঁছতে বাধ্য হচ্ছে।
শিলচর পুরসভার পূর্বতন ২৬ নম্বর এবং বর্তমান পুরনিগমের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওই এলাকার চলাচলের অন্যতম পথ হচ্ছে শিশু মন্দিরস্কুল রোড। যা টিভি সেন্টার রোডের সঙ্গে গিয়ে সংযুক্ত হয়েছে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ সড়কটির অধিকাংশ স্থানেই বিশাল বিশাল গর্ত। আর গর্তের মধ্যে জমে থাকা জলে সাধারণ পথচারী সহ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরাও। বিশেষ করে সোমবারের দিনভর বৃষ্টিতে ওই সড়কটির অধিকাংশ এলাকাই ছিল জলের তলায়।
এ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে স্থানীয় এক বরিষ্ঠ নাগরিক জানান, সড়ক সংস্কার থেকে শুরু করে বৃহত্তম মালিনী বিল এলাকার জমাজল নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে পুর কর্তৃপক্ষের নেতিবাচক মানসিকতার খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে। প্রায় ৮ হাজার বসতিপূর্ণ ওই এলাকার চলাচলের অন্যতম অবলম্বন ওই সড়কটির দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কারের নাম গন্ধ নেই। ফলে সংলগ্ন বেশ কয়েকটি সড়ক ও সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে। অল্প বৃষ্টিতেই ওইসব সড়কে জমাজলের উপর চলাচল করে নৌকো। আসলে প্রশাসনিক পর্যায়ে ওই এলাকাকে নিচু এলাকা হিসেবেই গণ্য করে আসা হচ্ছে। আর এলাকার অধিকাংশ খেটে খাওয়া মানুষ হওয়ায় এ নিয়ে সরব প্রতিবাদ করার অবকাশও অনেক সময় হয়না।
এলাকার বেশ কয়েকজন নাগরিককে পাশে রেখে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একটা সময় ছিল, শহরের বিশেষ করে ওই মালিনী বিলের জমাজল মহিষাখাল হয়ে বিশফুটি, তপোবননগর এলাকা ছুঁয়ে রাঙ্গিরখালে গিয়ে মিলিত হত। কিন্তু ওই সড়কটির মতো মহিষাখালেরও সংস্কার হয়নি দীর্ঘ বছর। ফলে জমাজলের দুর্ভোগ বছরের পর বছর ধরেই বয়ে চলতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করছে।
নিজেদের এই দুর্গতি মোচনে জেলা প্রশাসন, নিগম কর্তৃপক্ষ সহ শিলচরের বিধায়কের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা আশা ব্যক্ত করে বলেন, প্রশাসন সহ জনপ্রতিনিধিদের সুনজর পড়লে হয়ত ওই এলাকায় আশার আলো দেখা যাবে।

